ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দীপুর অনবদ্য সেঞ্চুরি, মোহামেডানকে হারিয়ে প্রাইম ব্যাংকের জয়
Contents
ডিপিএলে দীপুর ব্যাটে প্রাইম ব্যাংকের রোমাঞ্চকর জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) ব্যাটে-বলে লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হলো বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। যেখানে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছিল শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ হাসিটা হাসল প্রাইম ব্যাংক, যারা ৩ উইকেটের ব্যবধানে তুলে নিয়েছে এক স্মরণীয় জয়।
মোহামেডানের পাহাড়সম লক্ষ্য
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব শুরু থেকেই ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। উদ্বোধনী জুটিতে এনামুল হক বিজয় এবং নাঈম শেখ ৪৩ রান যোগ করে ভালো ভিত্তি গড়ে দেন। বিজয় ১৯ রান করে সাজঘরে ফিরলেও নাঈম শেখ এবং পারভেজ হোসেন ইমন হাল ধরেন। ইমন ৬৫ বলে ৫২ রানের এক সুশৃঙ্খল ইনিংস খেলেন। তবে মোহামেডানের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন নাঈম শেখ। শতকের খুব কাছে পৌঁছেও তিনি ব্যক্তিগত ৯৯ রানে আবু হাশিমের শিকার হন। ১০৭ বলের এই ইনিংসে তিনি ৯টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। শেষ দিকে আফিফ হোসেনের অপরাজিত ৪৯ এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝোড়ো ২০ রানের কল্যাণে মোহামেডান নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।
দীপুর লড়াকু সেঞ্চুরি ও প্রাইম ব্যাংকের জবাব
৩ রান তাড়া করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক শুরুটা করে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে। আজিজুল হাকিম তামিম এবং শাহাদাত হোসেন দিপু উদ্বোধনী জুটিতে ৫৩ রান যোগ করেন। তামিম ২০ রান করে ফিরলেও আরিফুল ইসলাম ক্রিজে এসে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ফিরে যান ৩৬ রান করে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন শাহাদাত হোসেন দিপু। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়েই প্রাইম ব্যাংক জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়
ম্যাচের মোড় ঘোরানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ঝোড়ো ইনিংসের। সেই দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নেন আকবর আলী, যিনি ৩০ বলে ৪০ রানের মূল্যবান একটি ইনিংস উপহার দেন। তবে জয়ের নায়ক ছিলেন শাহাদাত হোসেন দিপু। তিনি ১২৩ বল মোকাবিলায় ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। দিপু আউট হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু শামীম হোসেনের আগ্রাসী ব্যাটিং সব হিসাব পাল্টে দেয়। তিনি মাত্র ২১ বলে ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৩৭ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ দিকে আবু হায়দার রনির ৬ বলে ১৪ রানের ক্যামিও প্রাইম ব্যাংকের জয়কে আরও সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণ
এই জয়টি প্রাইম ব্যাংকের দলের গভীরতা এবং চাপের মুখে খেলার সক্ষমতাকে প্রমাণ করে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বড় সংগ্রহ গড়েও বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের শেষ দিকে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রান রেট বজায় রেখে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। দীপুর সেঞ্চুরি এবং শামীমের ফিনিশিং টাচ ডিপিএলের এই মৌসুমে প্রাইম ব্যাংককে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচই দেখতে পছন্দ করেন, যা শেষ বল পর্যন্ত উত্তেজনায় ঠাসা ছিল।