লিটন দাসের সেঞ্চুরি নিয়ে ক্ষুব্ধ খুররম শাহজাদ, দাবি করলেন ‘ভাগ্যবান’
Contents
লিটন দাসের সেঞ্চুরি এবং শাহজাদের আক্ষেপ
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদ নিজের দলের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও, লিটন দাসের সেঞ্চুরির নেপথ্যে ভাগ্যের বড় ভূমিকা দেখছেন তিনি। ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া শাহজাদের মতে, লিটন দাস সেদিন মাঠে অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিলেন।
পিচ নিয়ে শাহজাদের বিশ্লেষণ
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শাহজাদ জানান, সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পিচ ঢাকার তুলনায় অনেক বেশি ব্যাটিং সহায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা তিনশ রানের নিচে তাদের অলআউট করতে পেরেছি, এটিই ইতিবাচক। এই পিচ ঢাকার চেয়ে ভিন্ন। এখানে ব্যাটিং করা সহজ এবং আমার মনে হয় আমাদের ৪০০ থেকে ৪৫০ রান করা উচিত ছিল।’ যদিও শাহজাদ স্বীকার করেছেন যে প্রথম সেশনে পাকিস্তান দারুণ বোলিং করেছিল, কিন্তু শেষদিকে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার তাদের হাত থেকে ম্যাচ বের করে নেয়।
লিটন দাসের বীরত্ব ও পাকিস্তানের রিভিউ মিস
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল যখন লিটন দাস ৫২ রানে ব্যাট করছিলেন। শাহজাদের একটি বাউন্সারে বল লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি হয়। মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি এবং পাকিস্তানও তখন আর কোনো রিভিউ অবশিষ্ট না থাকায় সেটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে আল্ট্রাএজে দেখা যায়, বল গ্লাভসে লেগেছিল। এই ঘটনার পর লিটন আরও ৭৪ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখে।
শাহজাদ সরাসরি বলেন, ‘লিটন অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিল। আমরা সেই রিভিউটি মিস করে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছি। যদি আমরা তখন তাকে আউট করতে পারতাম, তবে ম্যাচের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। আমার মনে হয়, সে সময় তাকে ফেরাতে পারলে আমরা তাদের ২০০ রানের মধ্যেই আটকে ফেলতে পারতাম। তবে ক্রিকেটে এমনটা ঘটে এবং বড় পার্টনারশিপ হওয়াটাও খেলার অংশ।’
আক্রমণাত্মক মানসিকতা বনাম রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং
অনেকেই অভিযোগ তুলেছিলেন যে, উইকেট নেওয়ার সুযোগ ফুরিয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল। তবে শাহজাদ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘আমরা তাকে বেশ কিছু বাউন্সার দিয়েছিলাম। আমার বোলিংয়েই দুটি ক্যাচ ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে একটি রিভিউ না নেওয়া এবং অন্যটি স্কয়ার লেগে হাতছাড়া হওয়া। আমরা আক্রমণাত্মকই ছিলাম, কিন্তু আপনি যখন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবেন, তখন কিছু রান খরচ হওয়াটাও স্বাভাবিক।’
ম্যাচের সামগ্রিক পরিস্থিতি
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুর দিকে খুররম শাহজাদ নিজেই ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল, তখন লিটন দাসের ধৈর্যশীল ব্যাটিংই দলকে রক্ষা করে। রাওয়ালপিন্ডির সেই ১৩৮ রানের ইনিংসের মতোই লিটন আবারও দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন। মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে তার ১৬৫ রানের জুটিই বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দিনের শেষে বাংলাদেশ ২৭৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। পাকিস্তান যদিও শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং লিটন দাসের ভাগ্য প্রসন্ন হওয়ায় ম্যাচটি এখন একটি রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কতটা জবাব দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।