Rajat Patidar’s India Debut Openly Demanded By RCB Teammate – রজত পাতিদারকে ভারতীয় দলে নেওয়ার দাবি সতীর্থ ফিল সল্টের | IPL 2026
Contents
- 1 রজত পাতিদারের টর্নেডো ইনিংস ও আরসিবির ফাইনাল যাত্রা
- 2 ফিল সল্টের মজার দাবি: রজত পাতিদারকে ভারতীয় দলে নেওয়া হোক
- 3 ধরমশালার মাঠে পাতিদার ঝড় ও ম্যাচের বিশ্লেষণ
- 4 রেকর্ড গড়া এক মৌসুম পার করছেন পাতিদার
- 5 আরসিবি শিবিরের চমৎকার ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি
- 6 কবে হবে পাতিদারের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন?
- 7 টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে আরসিবি
রজত পাতিদারের টর্নেডো ইনিংস ও আরসিবির ফাইনাল যাত্রা
আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (RCB) আরও একবার ফাইনালে তুললেন তাদের অধিনায়ক রজত পাতিদার। ধরমশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (HPCA) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ বলে ৯৩* রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই দানবীয় ইনিংসে ছিল ৫টি দর্শনীয় চার এবং ৯টি বিশাল ছক্কা। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আরসিবি শিবিরের পাশাপাশি ক্রিকেট মহলে পাতিদারকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। যোগ্য ক্রিকেটার হিসেবেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান তিনি। এটি ছিল চলতি মৌসুমে তার পঞ্চম অর্ধশতক, যা তাকে ৫০০ রানের মাইলফলকের অত্যন্ত কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
ফিল সল্টের মজার দাবি: রজত পাতিদারকে ভারতীয় দলে নেওয়া হোক
রজত পাতিদারের এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের পর তাকে ভারতীয় জাতীয় দলে নেওয়ার জন্য মজার ছলে দাবি জানিয়েছেন তার আরসিবি সতীর্থ তথা ইংল্যান্ডের তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ফিল সল্ট। ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে টিম হোটেলে শুট করা একটি ভিডিওতে সল্টকে হাসিমুখে বলতে শোনা যায়, ‘রজত পাতিদার টিম ইন্ডিয়া প্লে বাটন।’ অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে পাতিদারের এখনই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে খেলা উচিত। সল্টের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে এবং আরসিবি ভক্তরা এটিকে দারুণভাবে লুফে নিয়েছেন। একজন বিদেশি সতীর্থের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাতিদারের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই।
ধরমশালার মাঠে পাতিদার ঝড় ও ম্যাচের বিশ্লেষণ
ধরমশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের পিচ সাধারণত পেসারদের কিছুটা সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে রজত পাতিদারের ব্যাটিংয়ের সামনে গুজরাটের কোনো বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। ইনিংসের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন মারমুখী মেজাজে। মাত্র ৩৩ বলের ইনিংসে তিনি যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোয়ালিফায়ার ইনিংস হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ২৫৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটাররা শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। আরসিবির বোলারদের চমৎকার bowling ও নিয়ন্ত্রিত লাইনের সামনে গুজরাটের ইনিংস মাত্র ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায়। এর ফলে আরসিবি ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় এবং মাঠের দর্শকদের এক স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দেয়। অধিনায়ক হিসেবে পাতিদার যেভাবে মাঠের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তার পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
রেকর্ড গড়া এক মৌসুম পার করছেন পাতিদার
চলতি আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি রজত পাতিদারের জন্য স্বপ্নের মতো কাটছে। এখন পর্যন্ত ১৩টি ইনিংসে তিনি ৪৪.১৮ গড়ে ৪৮৬ রান সংগ্রহ করেছেন। সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো তার স্ট্রাইক রেট, যা বর্তমানে ১৯৬.৭৬। এই মৌসুমে ৪০০-র বেশি রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেট তৃতীয় সর্বোচ্চ। তার আগে রয়েছেন কেবল রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অভিষেক শর্মা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে তার ৩৩ বলে ৯৩* রানের ইনিংসটি আরসিবিকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৪ রানের পাহাড়সম স্কোরে পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত আরসিবি এই ম্যাচে ৯২ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
আরসিবি শিবিরের চমৎকার ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি
ফিল সল্টের মতো একজন বিশ্বমানের বিদেশি খেলোয়াড় যখন কোনো ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটারের প্রশংসা করেন, তা দলের চমৎকার ড্রেসিংরুম সংস্কৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। সল্ট ও পাতিদারের মধ্যকার এই রসায়ন আরসিবির সাফল্যের অন্যতম মূল চাবিকাঠি। আরসিবি শিবিরে সবসময়ই তারকা খেলোয়াড়দের আধিক্য থাকে, তবে এবারের আসরে দলের ঐক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ফিল সল্টের সেই মজার ভিডিও বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ভক্তরা মনে করছেন, পাতিদারের মতো একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জন্য সতীর্থদের এমন সমর্থন জাতীয় দলে তার ফেরার পথকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। নির্বাচকরাও এখন নিশ্চয়ই ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পারফরম্যান্সের দিকে কড়া নজর রাখছেন।
কবে হবে পাতিদারের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন?
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া রজত পাতিদার এখনও পর্যন্ত ভারতের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। দেশের জার্সি গায়ে তিনি মাত্র ১টি ওয়ানডে এবং ৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে তিনি তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাতিদারের ব্যাটিং শৈলী এতটা কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে তার অভিষেক হয়নি। আইপিএলে তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) নির্বাচকরা অবশ্যই এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নতুন করে ভাববেন বলে আশা করা হচ্ছে।
টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে আরসিবি
গুজরাট টাইটান্সকে ৯২ রানে হারিয়ে আরসিবি এখন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রবিবারের মেগা ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের আইপিএল সংস্করণেও পাতিদারের নেতৃত্বেই প্রথম ট্রফি জিতেছিল আরসিবি। এবার তাদের সামনে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। আগামী ৩১ মে, রবিবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালে আরসিবির প্রতিপক্ষ কে হবে তা নির্ধারণ হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচের পর। যদি আরসিবি এই ফাইনাল জিততে পারে, তবে তারা চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (MI) পর আইপিএলের ইতিহাসে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ধরে রাখা তৃতীয় দল হিসেবে নিজেদের নাম লেখাবে। পাতিদারের এই চমত্কার নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং ফর্ম আরসিবি ভক্তদের মনে ব্যাক-টু-ব্যাক ট্রফি জয়ের আশা প্রবল করে তুলেছে।