Vaibhav Sooryavanshi Gifted A Car In IPL With No Driving License For Next 3 Year: A Cricket Wonder
Contents
আইপিএল ২০২৬: এক বিস্ময় বালকের উত্থান
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি চিরকাল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ব্যাটার কেবল মাঠে রানই করেননি, বরং রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলটপালট করে দিয়েছেন। ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন তার হাতেই।
টুর্নামেন্ট শেষে বিসিসিআই যখন পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করল, তখন দেখা গেল তালিকায় শুধু বৈভবের নাম। অরেঞ্জ ক্যাপ থেকে শুরু করে মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার এবং ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার—সবই জিতে নিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি সুপার স্ট্রাইকার অফ দ্য সিজন, মোস্ট সিক্সস এবং ফ্যান্টাসি কিং অফ দ্য সিজন হিসেবেও তিনি স্বীকৃত হয়েছেন।
কেন গাড়ি পেয়েও চালাতে পারছেন না বৈভব?
টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সুপার স্ট্রাইকার পুরস্কার হিসেবে পাওয়া দামী গাড়িটি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, Vaibhav Sooryavanshi Gifted A Car In IPL With No Driving License For Next 3 Year। ভারতের আইন অনুযায়ী, গাড়ির লাইসেন্স পেতে হলে একজন ব্যক্তিকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী হতে হয়। ১৫ বছর বয়সী বৈভব আপাতত তিন বছর এই গাড়ি চালানোর আইনি অধিকার পাচ্ছেন না। যদিও ১৬ বছর বয়সে গিয়ারবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ থাকলেও, চার চাকার গাড়ির জন্য তাকে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।
গাড়ির পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে ৬৫ লাখ টাকা এবং রাজস্থান রয়্যালস থেকে ১.১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। মাঠের বাইরের এই ব্যক্তিগত অর্জনগুলো তার সাফল্যের গল্পের এক ছোট অংশ মাত্র।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথে কি তৈরি বৈভব?
বৈভব সূর্যবংশীর অসাধারণ ব্যাটিং দেখে ক্রিকেটবোদ্ধারা তাকে দ্রুত জাতীয় দলে দেখার দাবি জানাচ্ছেন। জসপ্রীত বুমরাহ, প্যাট কামিন্স বা মিচেল স্টার্কের মতো বিশ্বমানের বোলারদের বিরুদ্ধে যেভাবে তিনি ব্যাটিং করেছেন, তাতে তার প্রতিভার কোনো সন্দেহ নেই। বিসিসিআই ইতিমধ্যে তাকে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ইন্ডিয়া এ দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আয়ারল্যান্ড সফর অথবা জাপানে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ এশিয়ান গেমসেও তাকে ভারতীয় দলে দেখা যেতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচকরা তাকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আগলে রাখতে চাইছেন।
ভবিষ্যতের পথচলা
বৈভব সূর্যবংশী অবশ্যই একজন জেনারেশনাল ট্যালেন্ট বা প্রজন্মের সেরা প্রতিভা। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ এবং দীর্ঘ ফরম্যাটের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন ধরনের। বিসিসিআইয়ের উচিত তাকে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে প্রস্তুত করা যাতে তিনি দশকের পর দশক ভারতীয় ক্রিকেটকে সেবা দিতে পারেন। এর পাশাপাশি ফিটনেসের মান বজায় রাখা এবং মাঠের বাইরের প্রলোভন সামলে ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রাখাই হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে, একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোর যেভাবে আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। গাড়ি চালানোর আইনি বাধা থাকলেও, তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গতিপথ যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেট বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই বিস্ময় বালক কখন ভারতের নীল জার্সি গায়ে মাঠে নামেন।