IPL 2026: পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে বড় আঘাত থেকে রক্ষা পেলেন বিরাট কোহলি
Contents
পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে বড় বিপদের মুখে বিরাট কোহলি
আইপিএল ২০২৬-এর মরসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং পাঞ্জাব কিংসের মধ্যকার ম্যাচে এক আতঙ্কজনক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। দলের ব্যাটিংয়ের সময় বড় ধরনের চোটের হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন কিংবদন্তি ব্যাটার বিরাট কোহলি। তার হাঁটুতে আগে থেকেই সমস্যা থাকায় এই ঘটনা ভক্তদের মনে বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?
ঘটনাটি ঘটে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। লকি ফার্গুসনের করা একটি শর্ট-পিচ ডেলিভারি খেলেন দেবদূত পাডিক্কাল। সেই সময় নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা কোহলি একটি সিঙ্গেল রানের জন্য দৌড় শুরু করেছিলেন। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন রান নেওয়ার সুযোগ নেই। ক্রিজে ফেরার জন্য তিনি যখনই ঘুরতে যান, তখনই পিচ্ছিল পিচে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। মুহূর্তের জন্য স্টেডিয়ামে এক নিস্তব্ধতা নেমে আসে, কারণ কোহলির হাঁটুতে আগে থেকেই চোটের ইতিহাস রয়েছে। ভাগ্য ভালো যে কোনো গুরুতর চোট ছাড়াই তিনি উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হন।
সরঞ্জামের ত্রুটি কি দায়ী?
পিচ্ছিল পিচে পড়ে যাওয়ার পর কোহলিকে তার স্পাইক বা জুতো পরীক্ষা করতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, জুতো পিচের গ্রিপ ঠিকমতো ধরতে না পারার কারণেই তিনি ভারসাম্য হারিয়েছিলেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার মাঠে নামার সময় যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি বা সরঞ্জামগত অসুবিধার সম্মুখীন হওয়াটা তার খেলার ছন্দে কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল।
ইনজুরির সঙ্গে কোহলির লড়াই
চলতি আইপিএল মরসুমের শুরু থেকেই বিরাট কোহলির হাঁটু নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত অর্ধশতরান করলেও, হাঁটুতে ব্যথার কারণে ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি। এমনকি লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে খেলতে হয়েছিল তাকে। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই নিয়মের বিরোধী, তবুও দলের প্রয়োজনে এবং নিজের শারীরিক অবস্থাকে মাথায় রেখে তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ফর্মের তুঙ্গে কোহলি
ইনজুরির ভয় এবং মাঠের মাঝপথে পড়ে যাওয়ার ঘটনা সত্ত্বেও, বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে তিনি সাবলীলভাবেই রান সংগ্রহ চালিয়ে গেছেন। এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত, কোহলি ২৫ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিল ৩টি চার এবং ২টি ছক্কা। অরেঞ্জ ক্যাপ দখলের লড়াইয়ে সাই সুদর্শনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কোহলি বদ্ধপরিকর ছিলেন। এই ম্যাচের আগে অরেঞ্জ ক্যাপ পুনর্দখল করতে তার প্রয়োজন ছিল ৭০ রান।
উপসংহার
আরসিবির হয়ে কোহলির এই লড়াই ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে সাহস জোগাচ্ছে। ইনজুরিকে সঙ্গী করেও যেভাবে তিনি ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে তার শারীরিক ফিটনেস নিয়ে ম্যানেজমেন্টকে এখন আরও সতর্ক হতে হবে, কারণ টুর্নামেন্টের পরের দিকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে কোহলির সুস্থ থাকা আরসিবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ভক্তরা আশা করছেন, বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি কোনো চোটের কবলে না পড়েই তার সেরাটা দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।