আইপিএলে ক্রিস গেইলের রেকর্ড ভাঙার পথে বৈভব সূর্যবংশী, পাশে দাঁড়িয়েছেন ইরফান পাঠান
Contents
আইপিএলের নতুন সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছেন ১৫ বছর বয়সী তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। সম্প্রতি লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে তার ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ৩৮ বলে ১০টি ছক্কা এবং ৭টি চারের সাহায্যে সাজানো তার এই ইনিংসটি কেবল রাজস্থান রয়্যালসকে জয় এনে দেয়নি, বরং তাকে নিয়ে এসেছে ইতিহাসের দুয়ারে।
ক্রিস গেইলের রেকর্ডের পথে
ক্রিকেটের মারকুটে ব্যাটার হিসেবে পরিচিত ক্রিস গেইল ২০১২ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে এক মৌসুমে ৫৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ ছিল। তবে এবারের আইপিএলে বৈভব সূর্যবংশী এখন পর্যন্ত ৫৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। অর্থাৎ, গেইলের সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র সাতটি ছক্কা। মজার ব্যাপার হলো, গেইল যখন সেই রেকর্ড গড়েছিলেন, তখন বৈভবের বয়স ছিল মাত্র এক বছর!
ইরফান পাঠানের অকুণ্ঠ সমর্থন
এই তরুণ ব্যাটারের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। জিওস্টারের সাথে আলাপকালে পাঠান বলেন, ‘সে যেভাবে ব্যাট করছে, তাতে গেইলের ৫৯ ছক্কার রেকর্ডটি এখন চরম হুমকির মুখে। আমরা ক্রিস গেইলের বিপক্ষে বোলিং করার সময় যে ভয় অনুভব করতাম, বৈভব এখন প্রতিপক্ষ বোলারদের মনে ঠিক সেই একই আতঙ্ক তৈরি করছে।’ পাঠানের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে বৈভবের ব্যাটিং শৈলী কেবল পরিসংখ্যানের দিক থেকেই নয়, বরং মানসিকভাবেও বোলারদের চাপে ফেলছে।
জয়পুরে রাজস্থানের জয়ের গল্প
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে রাজস্থান রয়্যালসের জয়টি ছিল বেশ নাটকীয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ মিচেল মার্শ (৯৬) এবং জশ ইংলিসের (৬০) কল্যাণে ২২০ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল। জবাবে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে বৈভব এবং যশস্বী জয়সওয়াল ওপেনিং জুটিতে দ্রুত ৭৫ রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ধ্রুব জুরেলের অপরাজিত ৫৩ রানের সুবাদে রাজস্থান তিন উইকেটে জয় তুলে নেয় এবং টানা তিন ম্যাচ হারের তিক্ততা কাটিয়ে ওঠে।
বৈভবের পরিপক্কতা
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর তরুণ এই ব্যাটার তার ব্যাটিং কৌশল সম্পর্কে বলেন, ‘প্রথম ইনিংসের সময় উইকেট দেখে মনে হয়েছিল ব্যাটিংয়ের জন্য এটি দারুণ। আমি শুরুতে তাড়াহুড়ো না করে সময় নিতে চেয়েছিলাম। আমি জানতাম, সুযোগ পেলেই আমি বাউন্ডারি মারতে পারব, তাই আমার লক্ষ্য ছিল ইনিংস দীর্ঘ করা এবং দলের অন্যান্য ব্যাটারদের সহায়তা করা।’
- ম্যাচ হাইলাইট: রাজস্থান রয়্যালস বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস
- ব্যক্তিগত স্কোর: বৈভব সূর্যবংশী ৯৩ (৩৮ বল)
- রেকর্ডের লক্ষ্য: ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কা
বৈভব সূর্যবংশীর এই উত্থান নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা। এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের এই মৌসুমে তিনি কতদূর যেতে পারেন এবং গেইলের এই দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে নিজের নামে নতুন ইতিহাস লিখতে পারেন কি না। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন রাজস্থানের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে।