আইপিএল ২০২৬: লখনউয়ের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালসের শক্তিশালী সম্ভাব্য একাদশ
রাজস্থান রয়্যালসের জন্য মরণ-বাঁচন লড়াই: লখনউয়ের মুখোমুখি রিয়ান পরাগের দল
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬-এর আসর এখন এক রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজস্থান রয়্যালস (RR), যারা টুর্নামেন্টের শুরুতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল, তারা টানা তিনটি ম্যাচে হেরে কিছুটা পথ হারিয়েছে। ৬৪তম ম্যাচে তারা ঘরের মাঠ জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG)। লখনউ ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও, রাজস্থানের জন্য এই ম্যাচটি প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার অগ্নিপরীক্ষা।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে পরাজয় রাজস্থানের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চির ধরিয়েছে। ১৯৩/৮ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করতে নেমে দিল্লি শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয়। বোলারদের ব্যর্থতা এবং রানের পুঁজি পর্যাপ্ত না হওয়ায় সেই ম্যাচে হারতে হয়েছিল রয়্যালসদের। এখন প্লে-অফে উঠতে হলে বাকি দুটি ম্যাচেই জয় অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে লখনউয়ের বিরুদ্ধে রাজস্থানের সম্ভাব্য শক্তিশালী একাদশ কেমন হতে পারে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
টপ অর্ডার: বিধ্বংসী মেজাজে বৈভব ও যশস্বী
রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ তাদের টপ অর্ডার। বৈভব সূর্যবংশী বর্তমান মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি ২১ বলে ৪৬ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেছিলেন, যেখানে তিনি এক মৌসুমে ভারতীয় হিসেবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড স্পর্শ করার পথে রয়েছেন। লখনউয়ের বিরুদ্ধেও তার কাছ থেকে একটি বিধ্বংসী শুরু প্রত্যাশা করছে দল।
অন্যদিকে, যশস্বী জয়সওয়াল গত তিন ম্যাচে বড় রান না পেলেও তার সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। মিচেল স্টার্কের মতো বিশ্বমানের বোলারকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি নিজের ক্লাস বুঝিয়েছেন। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতে পারেন ধ্রুব জুরেল। আগের ম্যাচে ধৈর্যশীল ফিফটি হাঁকিয়ে তিনি দলের মিডল অর্ডারকে ভরসা জুগিয়েছেন।
মিডল অর্ডার ও অলরাউন্ডার: অভিজ্ঞতার মিশেল
দলের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চোট কাটিয়ে ফিরে দিল্লির বিরুদ্ধে তিনি নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন। যদিও সেই ইনিংসটি জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, তবে লখনউয়ের বিরুদ্ধে তিনি বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন। অলরাউন্ডার বিভাগে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রবীন্দ্র জাদেজার চোট। হাঁটুর সমস্যার কারণে আগের ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। যদি জাদেজা ফিট থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই একাদশে ফিরবেন। অন্যথায় রবি সিং তার জায়গা ধরে রাখবেন।
সাউথ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ডনোভান ফেরেরা ফিনিশারের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। যদিও শেষ ম্যাচে তিনি গোল্ডেন ডাক মেরেছিলেন, কিন্তু দলের পরিকল্পনায় তার গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নয়, লখনউয়ের বিরুদ্ধে সম্ভবত মূল একাদশে দেখা যেতে পারে লঙ্কান তারকা দাসুন শানাকাকে। তার অভিজ্ঞতা ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই বৈচিত্র্য যোগ করবে।
বোলিং বিভাগ: আর্চারের নেতৃত্বে গতির ঝড়
রাজস্থানের বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইংলিশ গতিদানব জোফরা আর্চার। পুরো মৌসুমে তিনি নিয়মিত উইকেট শিকার করলেও অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থন পাচ্ছেন না। গত ম্যাচে অ্যাডাম মিলনে সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই লখনউয়ের বিরুদ্ধে আর্চারের সঙ্গী হিসেবে তরুণ ক্বেনা মাফাকাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
স্পিন বিভাগে রবি বিষ্ণোইয়ের জায়গায় যশ পুঞ্জা সুযোগ পেতে পারেন। গত ম্যাচে বিষ্ণোইয়ের পারফরম্যান্স খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। এছাড়া দলের তৃতীয় পেসার হিসেবে ব্রিজেশ শর্মা অপরিহার্য। তিনি কিছুটা রান খরচ করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতা রাখেন।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালসের শক্তিশালী একাদশ
- বৈভব সূর্যবংশী
- যশস্বী জয়সওয়াল
- ধ্রুব জুরেল
- রিয়ান পরাগ (অধিনায়ক)
- রবীন্দ্র জাদেজা/রবি সিং
- ডনোভান ফেরেরা
- দাসুন শানাকা
- জোফরা আর্চার
- ক্বেনা মাফাকা
- ব্রিজেশ শর্মা
- যশ পুঞ্জা
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ও কৌশল
ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজস্থান রয়্যালস তাদের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার কার্ড ব্যবহার করবে। এক্ষেত্রে শুভম দুবে প্রথম পছন্দ হতে পারেন, বিশেষ করে যদি দ্রুত উইকেটের পতন ঘটে। এছাড়া বিকল্প তালিকায় রয়েছেন রবি বিষ্ণোই, লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, সুশান্ত মিশ্র এবং আমান রাও। জয়পুরের উইকেটে স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন, তাই বিষ্ণোইকে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ের জন্য নামানো হতে পারে।
লখনউ ইতিপূর্বে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় তারা অনেকটা চাপমুক্ত হয়ে খেলবে। আর এই চাপমুক্ত দলের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া রাজস্থানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে রিয়ান পরাগের নেতৃত্বে রাজস্থান যদি তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারে, তবে ঘরের মাঠে জয় পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে ২ পয়েন্ট অর্জন করা রাজস্থানের জন্য বাধ্যতামূলক।