বিরাট কোহলি নন, আরসিবির সাফল্যের নেপথ্যে ফাফ ডু প্লেসির অবদান জানালেন রজত পাটিদার
Contents
আইপিএলে আরসিবির নতুন রূপকার রজত পাটিদার
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (আরসিবি) মানেই এতদিন সমর্থকদের কাছে ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার নাম। তবে ২০২৫ সালে সেই আঠারো বছরের খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, ২০২৬ সালেও দলটি তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর রজত পাটিদার। সম্প্রতি তিনি খোলাখুলি আলোচনা করেছেন তার অধিনায়ক হয়ে ওঠার সফর এবং দলের সাফল্যের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে।
বিরাট কোহলি নয়, অনুপ্রাণিত ফাফ ডু প্লেসির দর্শনে
সাধারণত আরসিবির ড্রেসিংরুমে বিরাট কোহলির উপস্থিতিতে তরুণ ক্রিকেটারদের শেখার সুযোগ থাকে প্রচুর। তবে বর্তমান অধিনায়ক রজত পাটিদার নিজের নেতৃত্বের ধরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক চমকপ্রদ নাম নিয়েছেন—ফাফ ডু প্লেসি।
স্পোর্টসস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাটিদার বলেন, ‘আমি কোনো পূর্বসূরিকে অন্ধ অনুকরণ করতে চাইনি। তবে ফাফ ডু প্লেসির একটি বিষয় আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল—তিনি প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন এবং তাদের গুরুত্ব দিতেন। তার আত্মবিশ্বাস এবং মাঠে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল দেখার মতো, যা কর্তৃত্ব প্রকাশ করত।’
প্রশিক্ষক চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের কৌশলগত পাঠ
নেতৃত্বের পাশাপাশি পাটিদার তার সাফল্যের পেছনে নিজের ব্যক্তিগত কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন। পাটিদার মনে করেন, ক্রিকেটের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়, তা তিনি চন্দু স্যারের কাছ থেকেই শিখেছেন। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা—২০ বছর খেলোয়াড় হিসেবে এবং ২০ বছর কোচ হিসেবে—পাটিদারের অধিনায়কত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনার জবাব
অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও পাটিদার আরসিবির অন্যতম ভরসা। তবে তার ব্যাটিং শৈলী নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে পাটিদার বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই মাল্টি-ডে বা লম্বা ফরম্যাটের ক্রিকেটে অভ্যস্ত। তবে এই ফরম্যাটেও আমার স্ট্রাইক রেট সবসময় ভালো ছিল। আমি আমার টি-টোয়েন্টি খেলার ধরণ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি। অনেকেই বলেন আমি স্পিনের বিপক্ষে ভালো খেলি, কিন্তু সত্যি বলতে, আমি পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাট করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’
আইপিএল ২০২৬: একটি মিশ্র মরসুম
চলতি আইপিএল মরসুমে পাটিদার ১১টি ইনিংসে মোট ৩৩৭ রান সংগ্রহ করেছেন, যার গড় ৩৩.৭০। তবে তার স্ট্রাইক রেট ১৯২, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অত্যন্ত কার্যকর। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ম্যাচে তিনি বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয়েছেন, এমনকি কনকাশনের কারণে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। এখন সকলের নজর সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যেখানে পাটিদার তার পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
উপসংহার
আইপিএল ২০২৬-এ আরসিবি যেভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে, তাতে করে সমর্থকদের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ক্রমশই উজ্জ্বল হচ্ছে। রজত পাটিদারের নেতৃত্ব এবং তার দলের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা প্রমাণ করছে যে, আরসিবি এখন শুধু তারকা নির্ভর দল নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল এবং কৌশলগত দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাটিদারের এই নেতৃত্বগুণই হতে পারে তাদের টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতার মূল চাবিকাঠি।