IPL Chair Issues ‘Football’ Culture As Biggest Threat To Cricket’s Future
Contents
ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কি ফুটবলীয় সংস্কৃতির পথে?
আধুনিক ক্রিকেটের প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর ও সতর্কবাণী দিয়েছেন। তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর এই অবাধ বিস্তার যদি নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে ক্রিকেট খুব দ্রুত ফুটবলের ক্লাব-কেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে ধাবিত হবে। আর এই রূপান্তর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবলীয় সংস্কৃতির প্রভাব ও ক্রিকেটের বর্তমান বাস্তবতা
বিশ্ব ফুটবলে ক্লাব প্রতিযোগিতাই মূল চালিকাশক্তি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা কিংবা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বিশাল আয়ের কাছে অনেক সময় জাতীয় দলের ম্যাচগুলো গৌণ হয়ে পড়ে। বর্তমানের নামী ফুটবলাররা জাতীয় দলের চেয়ে ক্লাবের জার্সিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ধুমাল সতর্ক করে বলেছেন, ক্রিকেটও এখন সেই একই পথে হাঁটছে।
আইপিএল, এসএ২০, মেজর লিগ ক্রিকেট এবং দ্য হান্ড্রেডের মতো টুর্নামেন্টগুলো খেলোয়াড়দের সামনে আয়ের বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। অনেক উদীয়মান ক্রিকেটার এখন জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির চেয়ে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।
টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ: আশঙ্কার মেঘ
অরুণ ধুমাল মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসা এখনো অটুট। ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের মতো বড় লড়াইগুলো এখনো দর্শকদের টানতে সক্ষম। তবে ধুমালের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক চাপে সাধারণ দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজগুলো হারিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের সম্ভাবনা এখনো অনেক, কিন্তু আমাদের এটি ব্যবহারের সঠিক উপায় বের করতে হবে।’
আর্থিক শক্তির লড়াই ও সম্প্রচারকদের ভূমিকা
ক্রিকেটের এই বিবর্তনের মূলে রয়েছে আর্থিক বিষয়টি। ধুমালের কথায়, ‘সম্প্রচারকরাই এখন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অংশীদার। তারা আইপিএল এবং বিসিসিআই-এর স্বত্ব কেনেন কারণ ভারতের সাথে খেলা মানেই বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের একটি সীমা আছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো বর্তমানে সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, অনেক সহযোগী দেশ যারা ওডিআই মর্যাদা পায়নি, তারাও এখন নিজস্ব লিগ চালু করছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কারণ ভক্ত এবং সম্প্রচারকরাই খেলার মূল অর্থ জোগানদাতা।
কি অপেক্ষা করছে ক্রিকেটের আগামীর জন্য?
ফুটবল এবং ক্রিকেটের কাঠামো কখনোই পুরোপুরি এক হবে না। আইসিসি বিশ্বকাপ বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টগুলো এখনো বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। তবে শক্তির ভারসাম্য যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকছে, তা বলাই বাহুল্য।
ধুমালের এই বক্তব্য কোনো নিরাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং ক্রিকেটের প্রশাসকদের জন্য একটি সময়োপযোগী সতর্কবার্তা। যদি আগামী দিনে টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা বজায় রাখতে হয়, তবে আইসিসি এবং বিভিন্ন দেশের বোর্ডগুলোকে এখনই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নাহলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়তো কেবল গুটিকয়েক বড় টুর্নামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
পরিশেষে, ক্রিকেটের ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক বাণিজ্যিক চাহিদার এক ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অরুণ ধুমালের এই পর্যবেক্ষণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, খেলার মূল নির্যাস বজায় রাখতে হলে পরিবর্তনের ঢেউয়ের সাথে সাথে সতর্ক পদচারণাও জরুরি।