ভারতের ভবিষ্যতের ওডিআই কৌশল গড়ে তুলতে পারে বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫-২৬
Contents
বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫-২৬: ভারতের ওডিআই ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন মঞ্চ
২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিজয় হাজারে ট্রফির ৩৩তম আসর ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে শুধু আনন্দের উৎসই নয়, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যে এই টুর্নামেন্টটি শুধু উদীয়মান তারকাদের জন্যই নয়, বরং জাতীয় দলের ভবিষ্যতের পরিকল্পনাকে নতুন দিশা দিতে পারে।
কোহলি-রোহিত: অভিজ্ঞতা ও ফিটনেসের সংমিশ্রণ
দুই জাদুকর, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা—তাঁদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টকে ঘিরে তৈরি করেছে এক বিশেষ অপেক্ষা। তাঁদের ম্যাচ-ফিটনেস এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, দু’জনেই তাঁদের প্রথম দুটি ম্যাচে শতরান করে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। এটা স্পষ্ট, তাঁরা ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সক্রিয় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
কোহলি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর মন্তব্য করেছিলেন, “আমি কখনও বেশি প্রস্তুতির পক্ষে ছিলাম না। আমার ক্রিকেট আসলে মানসিক। যতক্ষণ মানসিকভাবে আমি মাঠে থাকতে পারি, ততক্ষণ আমি প্রতিদিন শারীরিকভাবে কঠোর পরিশ্রম করি।” এই মনোভাব নিয়ে তিনি এসেছেন দেশীয় মঞ্চেও।
কোহলির পরে নম্বর তিনে কে?
কোহলি দীর্ঘদিন ধরে ওডিআই-তে নম্বর তিনে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর অবসর আসলে ভারতের হাতে এখন কোনও স্থায়ী প্রতিস্থাপন নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিজয় হাজারে ট্রফি নতুন প্রতিভাদের জন্য একটি আদর্শ মঞ্চ। এখানে ধ্রুব জুরেলের পারফরম্যান্স বিশেষ লক্ষণীয়।
২ ম্যাচে ১৪৭ রান, গড় ৭৩.৫০, স্ট্রাইক রেট ১২৪.৫৭—জুরেল ইতিমধ্যে দু’টি অর্ধশতরান করেছেন। যদি এই ফর্ম ধরে রাখেন, তবে তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করে নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে নম্বর তিন বা মধ্যম ক্রমে ব্যাটিং-এ তিনি ভারত পক্ষে ভবিষ্যতের আশা হিসাবে উঠে আসতে পারেন।
পেস আক্রমণে নতুন তারকা
জসপ্রীত বুমরাহের অনুপস্থিতিতে ভারতের ওডিআই পেস আক্রমণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজয় হাজারে ট্রফিতে জাতীয় দলের তালিকায় আসার জন্য পেসারদের নিজেদের দাবি জানানোর অন্যতম সুযোগ। দু’জন পেসার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চোখ টেনেছেন: উত্তরাখণ্ডের দেবেন্দ্র সিং বোরা এবং বড়োদার রাজ লিম্বানি।
- রাজ লিম্বানি: ২ ম্যাচে ৮ উইকেট, অন্তর্ভুক্ত একটি পাঁচ-উইকেট হুল। তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী।
- দেবেন্দ্র সিং বোরা: ২ ম্যাচে ৭ উইকেট, অন্তর্ভুক্ত চার-উইকেট হুল। তিনি রোহিত শর্মাকে গোল্ডেন ডাকে আউট করে বিশেষ মনোযোগ টেনেছেন।
এই পেসাররা শুধু উইকেট নেয়নি, ওভারের শেষে বল করার দক্ষতা এবং মিডিয়াম-পেস কন্ডিশনে স্থায়িত্ব দেখিয়েছেন—যা ওডিআই ক্রিকেটের জন্য অপরিহার্য।
দেশীয় ক্রিকেটের অবনমন এবং ভারতের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বজুড়ে দেশীয় ক্রিকেটের মান হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু ভারত এখনও বিজয় হাজারে ট্রফিকে তার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসাবে দেখে। কোহলি ও রোহিতের খেলার বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনা থাকলেও, পূর্বতন চিফ সিলেক্টর এমএসকে প্রসাদ বলেছেন, ধোনির যুগে দেশীয় ক্রিকেটে অংশ নেওয়া ছিল খেলোয়াড়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এখনও সেই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি
ওডিআইতে ভারতের প্রতিভা ভাণ্ডার এখন প্রায় সমৃদ্ধ। তবে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। এ কারণে, বিজয় হাজারে ট্রফির মতো আসরগুলি ভবিষ্যতের জন্য উত্তর খুঁজে দিতে পারে। কোহলি যদি ২০২৭-এ খেলেন, তবুও তাঁর পরের প্রজন্ম নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি।
বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫-২৬ শুধু খেলা নয়, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের প্রতিফলন। যে খেলোয়াড়রা এখন স্ট্যান্ডের কাছে খেলছেন, তারাই হতে পারেন আগামী দিনের নায়ক।