শুভমন গিলের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে চটল সিএসকে ভক্তরা | আইপিএল ২০২৬ বিতর্ক
Contents
আইপিএল ২০২৬-এ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়: শুভমন গিলের পোস্ট ঘিরে তীব্র বিতর্ক
আইপিএল মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের নাটকও সমান আকর্ষণীয়। বিশেষ করে আইপিএল ২০২৬ সংস্করণে ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি বিনোদনকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। গুজরাট টাইটান্সের (GT) অধিনায়ক শুভমন গিল সম্প্রতি এই ট্রেন্ডের অগ্রভাগে রয়েছেন। শেষ ৭টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়ে তার দল যখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ২-এ জায়গা করে নিয়েছে, তখন গিল সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক প্রতিপক্ষ দলকে ট্রোল করে পোস্ট করছেন। তবে এবার চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) বিরুদ্ধে জয়ের পর তার একটি পোস্ট সিএসকে সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে।
২১ মে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের পর শুভমন গিল তার ইনস্টাগ্রামে একটি প্রথাগত বিজয় উদযাপনের ছবি পোস্ট করেন। আর এই পোস্টের পরই সিএসকে ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উত্তেজনা ছড়ানো সেই পোস্ট এবং সিএসকে সমর্থকদের ক্ষোভ
শুভমন গিলের সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে ৯ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি লাইক লাভ করে। পোস্টটির ক্যাপশনে গিল লিখেছিলেন, “Nandri 2. Yellow lights, blue ending” (ধন্যবাদ ২। হলুদ আলো, নীল সমাপ্তি)। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে আইপিএল ২০২৬-এ গুজরাট টাইটান্স দ্বিতীয়বারের মতো চেন্নাই সুপার কিংসকে পরাজিত করেছে। মাঠে গ্যালারি জুড়ে হলুদ জার্সিধারী সমর্থকদের ছড়াছড়ি থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে নীল জার্সিধারীরাই।
তবে শুধু ক্যাপশনই নয়, পোস্টের ছবিটিতেও ছিল প্ররোচনা। ছবিতে শুভমন গিল, জস বাটলার এবং মোহাম্মদ সিরাজকে দেখা যায় ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকার ইঙ্গিত (shushing gesture) করতে। এটি স্পষ্টতই সিএসকে সমর্থকদের শান্ত থাকার বা মুখ বন্ধ রাখার বার্তা দিচ্ছিল। এই ছবি ও ক্যাপশন দেখার পর চেন্নাই ভক্তরা আর নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি। গিলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বইতে শুরু করে সমালোচনার ঝড়। অনেক সমর্থক একে অহংকার বলে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ গিলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সিএসকে-র ইতিহাস ও ঐতিহ্য কতটা সমৃদ্ধ।
প্রতিপক্ষদের ট্রোল করায় সিদ্ধহস্ত শুভমন গিল
শুভমন গিলের এই ধরনের ট্রোলিং এবারই প্রথম নয়। আইপিএল ২০২৬-এ প্রায় প্রতিটি জয়ের পরই তিনি প্রতিপক্ষ দলকে খোঁচা দিয়ে পোস্ট করছেন। নিচে তার কিছু উল্লেখযোগ্য ট্রোলিংয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- চেন্নাই সুপার কিংস (প্রথম ম্যাচ): তিন সপ্তাহ আগে সিএসকে-কে প্রথমবার হারানোর পর গিল হাতে একটি হলুদ বাঁশি নিয়ে ছবি পোস্ট করেছিলেন এবং ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “Nandri Chennai” (ধন্যবাদ চেন্নাই)। এটি চেন্নাইয়ের বিখ্যাত ‘হুইসেল পোডু’ স্লোগানকে সরাসরি খোঁচা দেওয়া ছিল।
- রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: আরসিবি-কে হারানোর পর গিল বেশ কিছু ছবি শেয়ার করে ক্যাপশন দেন, “Play hold, bold performance by the team tonight।” এটি আরসিবির বিখ্যাত “Play Bold” স্লোগানের একটি চতুর প্যারোডি ছিল।
- পাঞ্জাব কিংস: পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার করার পর সাই সুদর্শন, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং শুভমন গিল বিখ্যাত ভাঙড়া পোজ দিয়ে ছবি তোলেন। গিল ক্যাপশন লিখেছিলেন, “Bas jeetna hai aava de।”
- রাজস্থান রয়্যালস: রাজস্থান রয়্যালসও এই ট্রোলিং থেকে রক্ষা পায়নি। জয়পুরের গোলাপি শহরের বিরুদ্ধে জয়ের পর গিল পোস্ট করেন, “Pink city, blue result. Khamma Ghani।”
- সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জয়ের পর অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিষাণের সাথে ছবি পোস্ট করে গিল লিখেন, “Dil abhi bhi sacche aur ghar bhi kacche।”
এইসব পোস্টের কারণে গিল সবসময়ই আলোচনায় ছিলেন, কিন্তু চেন্নাইয়ের সমর্থকদের বড় ঘাঁটিতে আঘাত করার পর প্রতিক্রিয়া হয়েছে সবচেয়ে তীব্র।
আহমেদাবাদে গুজরাটের রাজত্ব এবং সিএসকের চরম বিপর্যয়
ম্যাচটির কথা বলতে গেলে, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে গুজরাট টাইটান্স। ওপেনার সাই সুদর্শন দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করেন, তিনি মাত্র ৫৩ বলে ৮৪ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা শুভমন গিলও কম যাননি; তিনি ৩৭ বলে ৬৪ রানের একটি মারকুটে ইনিংস খেলেন। শেষদিকে জস বাটলারের দ্রুতগতির ৫৭ রান গুজরাটকে ২২৯ রানের এক বিশাল পাহাড়ে পৌঁছে দেয়।
গুজরাটের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটা ছিল দেখার মতো। সাই সুদর্শনের চোখ ধাঁধানো ড্রাইভ এবং গিলের দৃষ্টিনন্দন ফ্লিকগুলো গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে মুগ্ধ করে। সিএসকে-র বোলাররা এই রান উৎসব রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। বিশেষ করে মিডল ওভারে রান রেট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
২৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাই সুপার কিংস শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন প্রথম বলেই শূন্য রানে (গোল্ডেন ডাক) সাজঘরে ফেরেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই চেন্নাই তাদের প্রথম ৪টি উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে। ৫.১ ওভারের মাথায় তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫১ রান ৪ উইকেটের বিনিময়ে।
এই বিপর্যয় থেকে চেন্নাই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাত্র ১৩.৪ ওভারের মধ্যে পুরো দল অলআউট হয়ে যায়। গুজরাট টাইটান্সের বোলাররা অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স দেখান। মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাদা এবং রশিদ খান প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট নিয়ে সিএসকে-র ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করে দেন।
এই বিশাল জয়ের ফলে গুজরাট টাইটান্স ১৪ ম্যাচ শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে এবং আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফে নিজেদের শীর্ষ ২-এর স্থান নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, এই লজ্জাজনক পরাজয়ের সাথে সাথে চেন্নাই সুপার কিংসের আইপিএল ২০২৬-এর যাত্রা এখানেই শেষ হয়ে যায় এবং তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। মাঠের এই বিশাল পরাজয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গিলের এই খোঁচা—দুইয়ে মিলে সিএসকে ভক্তদের ক্ষোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া যুদ্ধ
শুভমন গিলের এই ছবি পোস্ট করার সাথে সাথেই কমেন্ট সেকশন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকরা, যারা তাদের দলের পাঁচবারের আইপিএল শিরোপা জয়ের ইতিহাস নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, তারা গিলকে মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিনয়ী থাকার পরামর্শ দেন। অনেক ভক্ত মন্তব্য করেছেন যে, “একটি বা দুটি ম্যাচ জিতেই এত অহংকার ভালো নয়, সিএসকে-র ট্রফি ক্যাবিনেটের দিকে তাকিয়ে কথা বলা উচিত।” আবার কিছু ক্রিকেটপ্রেমী এই পুরো বিষয়টিকে কেবলই আইপিএলের রোমাঞ্চকর অফ-ফিল্ড বিনোদন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই ধরনের সুস্থ ট্রোলিং টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং ভক্তদের মাঝে আলোচনা তৈরি করে। তবে বিতর্ক যাই হোক না কেন, শুভমন গিলের এই পোস্টটি যে আইপিএল ২০২৬-এর অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।