Vaibhav Sooryavanshi In; No Place For Ishan Kishan: India’s Best Squad For Asian Games
Contents
এশিয়ান গেমসে ভারতের নতুন মুখ: বৈভব সূর্যবংশী
২০২৬ এশিয়ান গেমস জাপানের আইচি-নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ভারত গত আসরে স্বর্ণপদক জয় করে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছিল, তবে এবার প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। আইপিএল ২০২৬-এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় দল পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যেখানে তরুণ তারকাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান
সবচেয়ে চমকপ্রদ খবর হলো ১৫ বছর বয়সী ব্যাটিং সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশীর দলে অন্তর্ভুক্তি। আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তার দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন তাকে জাতীয় দলের দরজায় নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি যশস্বী জয়সওয়ালের জায়গায় ওপেনিংয়ে অভিষেক করতে পারেন। অন্যদিকে, সূচিগত কারণে ইশান কিষাণকে এই স্কোয়াডে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, কারণ একই সময়ে ভারতের ওডিআই সিরিজ রয়েছে।
ব্যাটিং লাইনআপের শক্তি
দলের ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে অভিষেক শর্মা এবং বৈভব সূর্যবংশী ওপেনিং জুটির দায়িত্ব নিতে পারেন। সঞ্জু স্যামসন মিডল অর্ডারে দলের হাল ধরার জন্য প্রস্তুত। এছাড়া রিঙ্কু সিং এবং তিলক ভার্মার মতো পাওয়ার হিটাররা মিডল অর্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে। ধ্রুব জুরেলকে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে দলে রাখা হতে পারে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ৩০ জনের সম্ভাব্য তালিকায় না থাকাটা বড় এক বিস্ময়।
অলরাউন্ডার ও বোলিং আক্রমণ
হার্দিক পান্ডিয়ার কাজের চাপ ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে তাকে এশিয়ান গেমস থেকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তার অনুপস্থিতিতে নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং শিবম দুবে অলরাউন্ডার হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করবেন। নীতীশ রেড্ডি আইপিএল ২০২৬-এ ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই অসাধারণ ছিলেন। স্পিন বিভাগে বরুণ চক্রবর্তী এবং রবি বিষ্ণোইয়ের ওপর ভরসা রাখবে টিম ম্যানেজমেন্ট। পেস বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন অর্শদীপ সিং, যার সাথে থাকছেন প্রসিধ কৃষ্ণা এবং যশ ঠাকুর।
ভারতের সম্ভাব্য সেরা স্কোয়াড
ক্রিকেট প্রেমীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্ভাব্য দলটি এমন হতে পারে: অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, সঞ্জু স্যামসন, ধ্রুব জুরেল, তিলক ভার্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, শিবম দুবে, রিঙ্কু সিং, হর্ষ দুবে, অর্শদীপ সিং, রবি বিষ্ণোই, প্রসিধ কৃষ্ণা, যশ ঠাকুর এবং বরুণ চক্রবর্তী। এই দলটি এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট সক্ষম বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশল
২০২৭ বিশ্বকাপের দিকে নজর রেখে বিসিসিআই এখন থেকেই নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। জসপ্রীত বুমরাহ বা হার্দিক পান্ডিয়ার মতো সিনিয়রদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে এশিয়ান গেমস তরুণদের জন্য নিজেকে প্রমাণ করার সেরা মঞ্চ। ইশান কিষাণ বা শ্রেয়াস আয়ারের মতো অভিজ্ঞরা যদি ওডিআই ফরম্যাটে ব্যস্ত থাকেন, তবে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ তরুণদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। জাপানের মাটিতে ভারতের এই নতুন ব্যাটিং লাইনআপ কেমন পারফর্ম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সামগ্রিকভাবে, বৈভব সূর্যবংশীর মতো তরুণ তুর্কিদের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ভারত তাদের সেরা অস্ত্রগুলো সাজাচ্ছে। অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের এই মিশেল কি আবারও ভারতকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে পারবে? উত্তর মিলবে আগামী সেপ্টেম্বরে।