Yesterday Match Result – ENG W vs IND W 2nd T20I Highlights May 30: ইংল্যান্ডের ২৬ রানে জয়
গতকাল ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ভারত নারী দল এবং ইংল্যান্ড নারী দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এক নাটকীয় লড়াই প্রত্যক্ষ করল ক্রিকেট বিশ্ব। এই ম্যাচে ভারতীয় দলের সামনে সুযোগ ছিল সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার, কিন্তু ব্যাটিং লাইনের চরম ব্যর্থতায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। Yesterday Match Result – ENG W vs IND W 2nd T20I Highlights May 30 অনুযায়ী, প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে তাড়া করতে নেমে ভারতীয় নারী দল ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪২ রানেই থমকে যায়, যার ফলে ইংল্যান্ড ২৬ রানের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায়।
Contents
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ও লড়াকু স্কোর
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। ওপেনার সোফিয়া ডাঙ্কলি ১৪ বলে মাত্র ১০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। তবে এরপরই ইংলিশ ব্যাটাররা ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। ড্যানি ওয়াট-হজ ২৫ বলে ২৯ রান এবং অ্যামি জোন্স ২২ বলে ২৮ রান করে দলের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান। অ্যালিস ক্যাপসিও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তিনি ২৫ বলে ২৮ রান সংগ্রহ করেন। এই তিন ব্যাটারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ইংল্যান্ডকে একটি মজবুত ভিত্তি প্রদান করে।
তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘুরিয়ে দেন ফ্রেইয়া কেম্প। মিডল অর্ডারে নেমে তিনি ভারতীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। মাত্র ১৩ বলে ৩৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন কেম্প, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার এবং ২টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। তিনি অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। শেষ দিকে দানি গিবসন অপরাজিত ১১ রান (২টি চার) করে কেম্পকে যোগ্য সঙ্গ দেন। ফলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৬৮ রান, যা ব্রিস্টলের এই উইকেটে একটি বেশ চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছিল।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শ্রী চারণী। তিনি ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই ইংল্যান্ডের রান ১৭০ পার হতে পারেনি। এছাড়া নন্দিনী শর্মা এবং শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
ভারতের লক্ষ্য তাড়া এবং ব্যাটিং বিপর্যয়
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধনা এবং শেফালি ভার্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। স্মৃতি মন্ধনা ২৫ বলে ৩২ রান করেন, যেখানে ছিল ৫টি চার। শেফালি ভার্মাও সমান ৫টি চারের সাহায্যে ১৪ বলে ২২ রান করে আউট হন। মন্ধনাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ফ্রেইয়া কেম্প এবং শেফালিকে আউট করেন লরেন বেল। এই দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর ভারতের ইনিংসের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে ভারতের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১০৯ রান। কিন্তু সেখান থেকে হঠাৎ করেই ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে এক অভাবনীয় ধস নামে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইয়াস্তিকা ভাটিয়া উইকেটে বেশ লড়াই করলেও তার রানের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। তিনি ৩৬ বল খেলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করার পর তাকে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে রিটায়ার্ড আউট বা রিটায়ার্ড হার্ট করে তুলে নেওয়া হয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুতগতির রানের চাহিদার সাথে তার ইনিংসটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, যা দলের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে।
ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে দলে ফেরা অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌর ২২ বলে ২৮ রান (২টি ছক্কা ও ১টি চার) করে কিছুটা আশা জাগালেও অন্য প্রান্তে কোনো ব্যাটার তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। ভারতের মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। যখন দলের জয়ের জন্য দ্রুত রানের প্রয়োজন ছিল, তখন জেমাইমা রদ্রিগেজ মাত্র ১ রান করে আউট হন। রিচা ঘোষ এবং দীপ্তি শর্মাও দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন। রিচা ৮ রান এবং দীপ্তি মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এই ধারাবাহিক উইকেট পতন ভারতের জয়ের আশাকে সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ করে দেয়। ফলস্বরূপ, ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১৪২ রান তুলতে সমর্থ হয় এবং ২৬ রানের পরাজয় বরণ করে।
ইংল্যান্ডের বোলিং নৈপুণ্য ও কৌশল
ইংল্যান্ডের বোলাররা চমৎকার লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করেছেন। বিশেষ করে ফ্রেইয়া কেম্প তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। তিনি বল হাতে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া চার্লি ডিন ২০ রান খরচায় ২টি এবং লরেন বেল ৩৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট লাভ করে ইংল্যান্ডের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ভারতীয় ব্যাটাররা কোনো বড় পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
- ইংল্যান্ড নারী দল: ২০ ওভারে ১৬৮/৫ (ফ্রেইয়া কেম্প ৩৯*, ড্যানি ওয়াট-হজ ২৯; শ্রী চারণী ৩-২৫)
- ভারত নারী দল: ২০ ওভারে ১৪২/৯ (ইয়াস্তিকা ভাটিয়া ৩৩, হারমনপ্রীত কৌর ২৮; ফ্রেইয়া কেম্প ২-১৫, চার্লি ডিন ২-২০, লরেন বেল ২-৩৩)
- ফলাফল: ইংল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।
সিরিজের বর্তমান পরিস্থিতি
এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইংল্যান্ড ১-১ ব্যবধানে সমতা এনেছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। এখন সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ হবে তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে। আগামী ২ জুন টন্টনের সমারসেট কাউন্টি গ্রাউন্ডে (Cooper Associates County Ground) সিরিজের শেষ ও অঘোষিত ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে দুই দলই।
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়
ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৯ রান এবং বল হাতে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের জয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় ফ্রেইয়া কেম্পকে ম্যাচ সেরা (Player of the Match) নির্বাচিত করা হয়েছে। তার এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই মূলত দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. গতকালকের ENG W vs IND W ২য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কে জয়ী হয়েছে?
উত্তর: ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ড নারী দল ভারতকে ২৬ রানে পরাজিত করেছে।
২. ENG W vs IND W ২য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কে ম্যাচ সেরা হয়েছেন?
উত্তর: অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ইংল্যান্ডের ফ্রেইয়া কেম্প ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
৩. গতকালকের ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর কত ছিল?
উত্তর: ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ১৬৮/৫ (২০ ওভার) রান সংগ্রহ করে এবং ভারত জবাবে ১৪২/৯ (২০ ওভার) রান করতে সক্ষম হয়।