Vijay Shankar Joins Lanka Premier League Days After IPL Retirement – আইপিএল থেকে অবসরের কয়েক দিন পরই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে বিজয় শঙ্কর
Contents
আইপিএল পরবর্তী নতুন যাত্রা: লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে বিজয় শঙ্কর
ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখ অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর তার ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (LPL) ষষ্ঠ আসরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ক্যান্ডি রয়্যালসের হয়ে তাকে মাঠে দেখা যাবে, যা তার আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট অভিজ্ঞতার এক নতুন সংমিশ্রণ হতে যাচ্ছে।
অবসর ও নতুন সুযোগের সন্ধান
গত ২২ মে, ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, ১০ বছর বয়স থেকে যে ক্রিকেট তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে, তা থেকে বিদায় নেওয়া সহজ ছিল না। তিনি ভারতের হয়ে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং বিভিন্ন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন। তবে, বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার লক্ষ্য স্থির করেছেন।
ক্যান্ডি রয়্যালসে বিজয় শঙ্করের অন্তর্ভুক্তি
আগামী ১৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরে ক্যান্ডি রয়্যালসের জার্সি গায়ে দেখা যাবে বিজয় শঙ্করকে। আইপিএলে সর্বশেষ চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) হয়ে খেললেও, ২০২৫ মৌসুমটি তার জন্য সুখকর ছিল না। মাত্র পাঁচটি ইনিংসে ১১৮ রান সংগ্রহ করার পর সিএসকে তাকে অবমুক্ত করে। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এলপিএলের মতো লিগে তার অন্তর্ভুক্তি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিসিসিআইয়ের নিয়ম ও অবসরের প্রভাব
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) বর্তমানে সক্রিয় ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না। এই কারণেই বিজয় শঙ্করের মতো খেলোয়াড়দের বিদেশের মাটিতে লিগ খেলার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে হয়। অতীতে মুনাফ প্যাটেল এবং ইরফান পাঠানের মতো ক্রিকেটাররা লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছিলেন, তবে বিজয় শঙ্করের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কুলিং-অফ পিরিয়ড নিয়ে বিতর্ক
বিজয় শঙ্করের অবসরের মাত্র চার দিনের মধ্যেই এলপিএলে যোগ দেওয়া বিষয়টি বিসিসিআইয়ের আলোচিত ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ সংক্রান্ত নিয়মকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতে অনেক খেলোয়াড় বিদেশি লিগে অংশ নেওয়ার জন্য দ্রুত অবসর গ্রহণ করায় বিসিসিআই এক বছরের একটি বিরতির কথা ভেবেছিল। যদি এই নিয়ম কার্যকর থাকে, তবে বিদেশি লিগে খেলার ক্ষেত্রে বিজয় শঙ্করসহ অন্যান্যদের জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জানা গেছে, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগই কেবল বিজয় শঙ্করের একমাত্র গন্তব্য নয়। তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL), কানাডা টি-টোয়েন্টি লিগ এবং মেজর লিগ ক্রিকেট (MLC)-এর মতো টুর্নামেন্টগুলোতেও নিজেকে মেলে ধরার পরিকল্পনা করছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তিনি কতটা সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার অভিজ্ঞতা এবং অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ক্যান্ডি রয়্যালসকে ষষ্ঠ আসরে এগিয়ে রাখবে বলেই আশা করছেন বিশ্লেষকরা।
উপসংহার
বিজয় শঙ্করের এই যাত্রা ভারতের মতো দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ এবং বিসিসিআইয়ের নিয়মের মাঝখানে এক ভারসাম্য খোঁজার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিজেকে প্রমাণ করার এই সুযোগ তার জন্য নতুন কোনো উচ্চতায় পৌঁছানোর সিঁড়ি হয়ে থাকবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন আসরে তার পারফরম্যান্সের দিকে এখন তাকিয়ে থাকবেন বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা।