Rishabh Pant’s Replacements: LSG Players In Race To Be Appointed Captain For IPL
লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) জন্য আইপিএল ২০২৬ মৌসুম ছিল সম্পূর্ণ ব্যর্থতার। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নয়, বরং সর্বনিম্ন স্থানে শেষ করল তারা। এরপরেই অধিনায়ক রিষভ পন্তের উপর সমালোচনার ভারী ভার নেমে এসেছে। ২৭ কোটি টাকার দুঃসাহসিক বিনিয়োগ স্বার্থক হয়নি। এখন উঠেছে বড় প্রশ্ন: Rishabh Pant‘s Replacements: LSG Players In Race To Be Appointed Captain For IPL।
Contents
পন্তের ব্যর্থতা: সংখ্যা যা বলে
২০২৫-এর নিলামে ২৭ কোটি টাকায় পন্তকে কিনেছিল এলএসজি। আশা ছিল তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদি মুখ ও নেতা হয়ে উঠবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
১৩ ইনিংসে মাত্র ৩১২ রান, গড় ৩০-এর নিচে, স্ট্রাইক রেট ১৩৮.০৫। ব্যাটে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি পন্ত। আর অধিনায়কত্বে তাঁর রেকর্ডও কম খারাপ নয়: ২৮ ম্যাচে ১১ জয় ও ১৭ হার।
পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে হারের পর ক্রিকেট ডিরেক্টর টম মুডি স্পষ্ট করেছেন, ২০২৭-এর আগে নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবে ফ্র্যাঞ্চাইজি।
পন্তের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীরা
এইডেন মার্করাম
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যান এলএসজির মধ্যে সবচেয়ে প্রাকৃতিক নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মার্করাম ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক এবং ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০১৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ১১০ টি টি২০ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে ৫৬টি ম্যাচ জিতেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ—সব জায়গাতেই তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সেমিফাইনালে তাঁর গড় ৭০.৫। চাপের মুখে কাজ করার দক্ষতা আছে। পাশাপাশি ব্যাটিং ও লিডারশিপে দুই কাজ একসঙ্গে করার সক্ষমতা তাঁকে দুর্দান্ত পছন্দ করে তোলে।
মিচেল মার্শ
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মার্শও একটি শক্তিশালী বিকল্প। তিনি ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ৬০ টি টি২০ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন এবং ৩৪টি জিতেছেন।
অস্ট্রেলিয়া এবং পার্থ স্কর্চার্সের হয়ে তাঁর নেতৃত্বে দল প্রায়শই প্রথমে ফিল্ড করে জয় পেয়েছে (২১ ম্যাচ)। তাঁর আক্রমণাত্মক কিন্তু ইতিবাচক নেতৃত্ব এলএসজিকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারে।
বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা, ড্রেসিং রুম অথরিটি, এবং ভারসাম্যপূর্ণ খেলা—এগুলো তাঁকে একটি শক্তিশালী প্রার্থী করে তোলে।
নিকোলাস পুরান
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পুরানের অবস্থান অনন্য। তিনি সিপিএল, আইএলটি২০, এমএলসি, এসএ২০-সহ বিভিন্ন লিগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় দলেও অধিনায়কত্ব করেছেন।
২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ৮৪টি টি২০ ম্যাচে ৪৩টি জয় তাঁর। মাই ইমিরেটস এবং মাই নিউ ইয়র্কের মতো দলগুলিকে তিনি সফলতার দিকে নিয়ে গেছেন।
এলএসজির সঙ্গে পুরানের ভালো কেমিস্ট্রি আছে। তাই পন্তকে সরিয়ে দিলেও তাঁকে নেতা বানানো হলে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত কম হবে। কোয়ালিফায়িং ফাইনালে তাঁর গড় ৬৯, যা চাপে কাজ করার প্রমাণ।
সরাবেন কি পন্তকে?
পরিসংখ্যান দেখলে মার্করাম, মার্শ এবং পুরান সবারই পন্তের চেয়ে ভালো রেকর্ড। তবে আইপিএল-এ শুধু রান-হারের হিসেব নয়, ব্র্যান্ড মূল্যও বিবেচনায় আসে।
পন্ত এখনও ভারতীয় ক্রিকেটের এক বড় মুখ। তাঁকে দু’বছরে সরিয়ে দেওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি নষ্ট করতে পারে। স্থিতিশীলতা হারানো যেতে পারে।
হয়তো সম্পূর্ণ অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার বদলে পন্তকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব দল তৈরি করা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তাঁকে সমর্থন করে চাপ কমানো যেতে পারে।
তবে আইপিএল ২০২৭-এর আগে এলএসজির কাছে প্রশ্ন অনেক বড়: একজন জনপ্রিয় অধিনায়ক নাকি একজন প্রমাণিত নেতা? সময়ই বলবে কে হবেন পরবর্তী নেতা।