Yuvraj Singh loses patience with PBKS players, issues ‘belt-treatment’ warning o
Contents
পাঞ্জাব কিংসের তারকাদের শাসালেন যুবরাজ সিং
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার যুবরাজ সিং যদিও বর্তমানে পাঞ্জাব কিংসের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই, তবুও দলের তরুণ ক্রিকেটারদের সাথে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। সম্প্রতি দলের ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখে যুবরাজ যে মেজাজে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে, হরপ্রীত ব্রারের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে যুবরাজের মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
কী ঘটেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়?
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব কিংসের জয়ের পর স্পিনার হরপ্রীত ব্রার একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবিতে তাঁর পাশে ছিলেন প্রিয়ংশ আর্য এবং আরশদীপ সিং। হরপ্রীত ব্রার মজার ছলে প্রিয়ংশ আর্যকে ‘স্লগার’ এবং আরশদীপ সিংকে ‘ভ্লগার’ হিসেবে সম্বোধন করেন। মূলত প্রিয়ংশ আর্যর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ক্ষমতার কারণে এই নাম এবং আরশদীপের মাঠের বাইরের ভ্লগিংয়ের নেশার কারণে এই মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
তবে যুবরাজ সিং এই বিষয়টি খুব একটা ভালোভাবে নেননি। প্রাক্তন এই পাঞ্জাব অধিনায়ক সরাসরি মন্তব্য করেন, “Tuhade sariyan de chapalan da time ho gaya hai hun!” যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, “তোমাদের সবার এখন চটি দিয়ে পেটানোর সময় হয়েছে!” যুবরাজের এই মন্তব্যটি মূলত একটি মজার ‘ডিসিপ্লিনারিয়ান’ বা শাসনকারী ভঙ্গি, যা তিনি প্রায়ই পাঞ্জাবের তরুণ ক্রিকেটারদের সাথে করে থাকেন।
আরশদীপের ভ্লগিং নিয়ে বিতর্ক
উল্লেখ্য যে, আরশদীপ সিংয়ের ভ্লগিং করার অভ্যাসটি নিয়ে চলতি আইপিএলে বেশ জলঘোলা হয়েছে। বিসিসিআই এবং পাঞ্জাব কিংস কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই বিষয়ে সতর্কও করেছিল। মজার বিষয় হলো, লখনউয়ের বিরুদ্ধে জয়ী ম্যাচে আর্য এবং আরশদীপ কেউই সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। আর্য প্রথম বলেই আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান এবং আরশদীপ নিজের তিন ওভারের স্পেলে ৫২ রান খরচ করেন। তাদের এই পারফরম্যান্সের পরেই যুবরাজের এই তির্যক মন্তব্য যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পাঞ্জাব কিংসের হয়ে যুবরাজের অতীত
যুবরাজ সিং ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পাঞ্জাব কিংসের জার্সি গায়ে খেলেছেন। দলের প্রথম দুই বছর তিনি অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন। ২০০৮ সালে তাঁর নেতৃত্বেই পাঞ্জাব সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আইপিএলে পাঞ্জাবের হয়ে খেলে তিনি ৯৫৯ রান করেছেন এবং বল হাতেও একাধিকবার ম্যাজিক দেখিয়েছেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালে তিনি একটি আইপিএল মরশুমে দুটি হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছিলেন।
প্লে-অফের সমীকরণ
পাঞ্জাব কিংসের লখনউয়ের বিরুদ্ধে জয় তাঁদের আইপিএল ২০২৬ প্লে-অফে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু বিষয়টি এখন অন্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রাজস্থান রয়্যালস, কিংবা দিল্লি ক্যাপিটালস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচের ফলের ওপরই নির্ধারিত হবে পাঞ্জাবের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি যুবরাজের এই ‘সতর্কবার্তা’ তরুণদের খেলার ধরনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে কি না।
ক্রিকেটের মাঠে যুবরাজের এমন সরস মন্তব্য বরাবরই ভক্তদের আনন্দ দেয়। মাঠের বাইরের এই খুনসুটি এবং শাসন পাঞ্জাব কিংসের ড্রেসিংরুমের আবহাওয়াকে আরও প্রাণবন্ত করে রাখে, যা দলের একতা বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। তবে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এখন কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার মজার মন্তব্য নয়, বরং ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতেই হবে পাঞ্জাবকে।