Women’s Champions Trophy 2027 moved from June to February: আইসিসির বড় ঘোষণা
Contents
- 1 ভূমিকা: নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন
- 2 টুর্নামেন্টের ফরম্যাট এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সঙ্গে সংঘর্ষ
- 3 আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি: নতুন ১০ দলের পাইলট সংস্করণ
- 4 ২০২৮ নারী টি২০ বিশ্বকাপ: যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া এবং হাইব্রিড মডেল
- 5 শাসনগত সংকটের কারণে ক্রিকেট কানাডাকে স্থগিত করল আইসিসি
- 6 বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় সরকারি হস্তক্ষেপের তদন্ত
ভূমিকা: নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নারী ক্রিকেটের বৈশ্বিক সূচিতে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৭ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়কাল পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্বে এই টুর্নামেন্টটি জুন-জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আইসিসি সেটি এগিয়ে এনেছে। এখন এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। মূলত Women’s Champions Trophy 2027 moved from June to February – এই পরিবর্তনের ঘোষণাটি এসেছে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির ত্রৈমাসিক সভায়, যেখানে বোর্ড সদস্যরা এই নতুন সূচি অনুমোদন করেন। তবে এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আইসিসির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাট এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সঙ্গে সংঘর্ষ
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আট দলের টুর্নামেন্টটি সম্পূর্ণ টি২০ (T20) ফরম্যাটে খেলা হবে। আইসিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টটি ২০২৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই নতুন সূচির কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সূচিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নিউজিল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফরের সঙ্গে এই টুর্নামেন্টের একটি আংশিক ওভারল্যাপ বা সময়ের সংঘর্ষ ঘটছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ছয় ম্যাচের হোয়াইট-বল সিরিজটি ২০২৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে যে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে (CA) এই পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা এখন এই বিষয়ে তাদের পরবর্তী করণীয় ও বিকল্প পথগুলো বিবেচনা করছে।
আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি: নতুন ১০ দলের পাইলট সংস্করণ
নারী ক্রিকেটের প্রসারে আইসিসি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। চলতি বছর তারা ‘আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি’র একটি নতুন সংস্করণ পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করবে। এই টুর্নামেন্টটি এবার ১০টি দল নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজিত হবে। আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য (Full Members) দেশ এবং পাঁচটি সহযোগী সদস্য (Associate Members) দেশ এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, গত বছর এই টুর্নামেন্টটি আটটি দল নিয়ে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে শীর্ষ সহযোগী দেশগুলো অংশ নিয়েছিল এবং থাইল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এবার টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়িয়ে ১০ দলে উন্নীত করা ক্রিকেটীয় দক্ষতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৮ নারী টি২০ বিশ্বকাপ: যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া এবং হাইব্রিড মডেল
আইসিসি বোর্ড ২০২৮ সালের নারী টি২০ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথ বা কোয়ালিফিকেশন পাথওয়ে অনুমোদন করেছে। এই টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে টুর্নামেন্টটি হাইব্রিড মডেলে পরিচালিত হবে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, ভারতের ম্যাচগুলো একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হবে।
২০২৮ সালের এই বিশ্বকাপে মোট ১২টি দল অংশ নেবে, যার মধ্যে ১০টি দল সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা অর্জন করবে। এই ১০টি দলের মধ্যে থাকবে:
- ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চলতি মাসের টুর্নামেন্টের শীর্ষ আটটি দল।
- স্বাগতিক দেশ (পাকিস্তান)।
- ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত আইসিসি নারী টি২০আই (T20I) র্যাঙ্কিংয়ে থাকা পরবর্তী সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী দলগুলো।
বাকি দুটি দল নির্ধারণ করা হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে একটি ১০ দলের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে রূপ নেবে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত দুটি দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
শাসনগত সংকটের কারণে ক্রিকেট কানাডাকে স্থগিত করল আইসিসি
আইসিসির সভায় ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত করার একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইসিসির মতে, ক্রিকেট কানাডা তাদের সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা পালনে গুরুতর লঙ্ঘনের (serious breaches of membership obligations) দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। এর আগে গত মে মাসে আইসিসি ক্রিকেট কানাডার গভর্ন্যান্স বা প্রশাসনিক সমস্যার কারণে তাদের তহবিল স্থগিত করেছিল। যদিও আইসিসি এই লঙ্ঘনের বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেনি, তবে গত ১৮ মাসে ক্রিকেট কানাডা চরম প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে এবং কয়েকটি দুর্নীতি তদন্তের মুখোমুখিও হয়েছে।
তবে এই স্থগিতাদেশের কারণে কানাডার ক্রিকেটার বা তাদের উন্নয়ন কর্মসূচিতে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, আইসিসি তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে। আইসিসি বোর্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আইসিসি বোর্ড কানাডিয়ান খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় ক্রিকেট সংস্থার শাসনগত সমস্যার কারণে তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব বিবেচনা করেছে। সেই অনুযায়ী, স্থগিতাদেশের মেয়াদেও কানাডার জাতীয় দলগুলো আইসিসির ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।”
জাতীয় দলগুলোর অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আইসিসি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং কঠোর পর্যবেক্ষণে একটি নিয়ন্ত্রিত তহবিল ব্যবস্থার (controlled funding mechanism) মাধ্যমে ক্রিকেট কানাডাকে অর্থায়নের সুযোগ দেবে। এই তহবিল শুধুমাত্র অনুমোদিত জাতীয় দলের কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করা যাবে। আইসিসি জানিয়েছে যে, তারা ক্রিকেট কানাডাকে পুনরায় সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার জন্য কিছু শর্তাবলী (reinstatement conditions) প্রদান করবে এবং আইসিসির নরমালাইজেশন কমিটি তাদের সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় সরকারি হস্তক্ষেপের তদন্ত
আইসিসি সম্প্রতি ক্রিকেট প্রশাসনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে দুটি পূর্ণ সদস্য দেশের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা করতে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার মোহাম্মদ মুসাজি এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের তাভেংওয়া মুকুহলানি অংশীজনদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ইতিমধ্যেই আইসিসির ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা এবং বিসিসিআই-এর দেবাজিৎ সাইকিয়া দেশটিতে সফর করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।