আইপিএল ২০২৬: প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে নিজের ক্ষোভের কথা জানালেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার
Contents
আইপিএল ২০২৬: মাঠের লড়াই ও দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) শিবিরে এখন উৎসবের আমেজ। আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ২৩ রানের দারুণ এক জয়ে। এই জয়ের অন্যতম কারিগর ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ধরমশালার ধীরগতির পিচে ৪০ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে তিনিই হয়েছেন ম্যাচের সেরা। তবে মাঠের সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষার যন্ত্রণা ও হতাশা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আইয়ার অকপটে স্বীকার করেছেন তার মনের অস্থিরতার কথা। তিনি বলেন, ‘আমি যদি বলি যে আমি হতাশ ছিলাম না, তবে সেটি মিথ্যা বলা হবে। আমি মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। একজন ক্রিকেটারের কাছে আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচই বড় সুযোগ। আমি খেলতে চেয়েছিলাম এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম।’
চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার মাত্র চতুর্থ ম্যাচ। এর আগে খুব বেশি সময় ব্যাট করার সুযোগ পাননি তিনি। নিজের দীর্ঘ ইনিংস নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম আমি লম্বা সময় ধরে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছি। ম্যান অব দ্য ম্যাচ পাওয়ার চেয়েও বড় কথা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারা এবং দুই পয়েন্ট অর্জন করা।’
দলের কম্বিনেশন ও চ্যালেঞ্জ
আরসিবির মতো চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে সুযোগ পাওয়া সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। আইয়ার মনে করেন, দলের ভারসাম্যের কথা ভেবে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই দলের সাথে আছি। আমি বুঝি যে একটি চ্যাম্পিয়ন দলের কম্বিনেশন বারবার পরিবর্তন করা ঠিক নয়। তবে আমি সবসময়ই কোচিং স্টাফকে আমার ওপর আস্থা রাখতে বলতাম, আমি নিজেকে প্রমাণ করার অপেক্ষায় ছিলাম।’
বর্তমান আইপিএলে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের কারণে অলরাউন্ডারদের জায়গা করে দেওয়াটা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে আইয়ারকে এই মৌসুমে কেবল বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও তিনি বল হাতেও দক্ষ।
বিরাট কোহলির সাথে পার্টনারশিপ
পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে বিরাট কোহলির সাথে তৃতীয় উইকেটে ৩৫ বলে ৬০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন আইয়ার। এই পার্টনারশিপের সাফল্যের রহস্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুটা কিছুটা জড়তা নিয়ে হলেও বিরাট কোহলির সাথে ব্যাট করাটা অনেক সহজ করে দেয়। কিংবদন্তিদের সাথে খেলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাদের সাথে যোগাযোগ। ম্যাচে আমরা দুজন মিলে যেভাবে পরিকল্পনা করেছি, সেটাই ছিল জয়ের চাবিকাঠি।’
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
মাঠের জড়তা কাটিয়ে ছন্দ ফিরে পাওয়াটাই ছিল আইয়ারের জন্য আসল লড়াই। তিনি জানান, শুরুতে পিচের আচরণ বোঝার জন্য কিছু বল সময় নেওয়া প্রয়োজন ছিল। একবার পিচের ধরন বুঝে ফেলার পর তার জন্য বোলারদের আক্রমণ করা সহজ হয়ে যায়। এই আত্মবিশ্বাস এখন আরসিবির পরের ম্যাচের জন্য বড় পাওনা।
প্লে-অফ নিশ্চিত করার পর আরসিবি এখন তাদের পরবর্তী লক্ষ্য স্থির করেছে। আগামী ২২ মে হায়দ্রাবাদে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বেঙ্গালুরু। আইয়ারের এমন ফর্ম দলের প্লে-অফ জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
- ম্যাচের ফলাফল: আরসিবি ২৩ রানে জয়ী।
- ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স: ভেঙ্কটেশ আইয়ার (৪০ বলে অপরাজিত ৭৩ রান)।
- পরবর্তী ম্যাচ: বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (২২ মে, হায়দ্রাবাদ)।
আইয়ারের এই প্রত্যাবর্তনের গল্প প্রমাণ করে যে, সুযোগের অপেক্ষায় থাকা একজন ক্রিকেটারের কাছে ধৈর্য ও পরিশ্রম কত বড় হাতিয়ার হতে পারে। আরসিবি সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন তাদের প্রিয় দলের শিরোপা জয়ের দিকে।