IPL 2026: আরসিবিকে হারিয়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয়, প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্যাট কামিন্স
Contents
আইপিএল ২০২৬: হায়দ্রাবাদের রাজকীয় জয়
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু—উভয় দলই প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে। তবে শেষ চারের লড়াইয়ের আগে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখতে কোনো দলই ছাড় দিতে নারাজ ছিল। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন হায়দ্রাবাদ প্রমাণ করল কেন তাদের ব্যাটিং লাইনআপ এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বিধ্বংসী।
ব্যাটারদের তাণ্ডব ও পাহাড়সম সংগ্রহ
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই হায়দ্রাবাদের ব্যাটাররা আরসিবি বোলারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইশান কিষাণ ৪৬ বলে ৭৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অভিষেক শর্মা, যিনি ২২ বলে ৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। এরপর হেনরিখ ক্লাসেন ২৪ বলে ৫১ রান করে দলীয় সংগ্রহকে ২৫৫ রানে নিয়ে যান। মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে হায়দ্রাবাদ যে পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায়, তা তাড়া করা আরসিবির জন্য ছিল এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। আরসিবির বোলাররা এদিন ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ; ভুবনেশ্বর কুমার ৪ ওভারে ৫১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন এবং জশ হ্যাজেলউড ৫৬ রান খরচ করে হয়েছেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলার।
বেঙ্গালুরুর ব্যর্থ লড়াই
২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। জ্যাকব বেথেলের ইনজুরির কারণে ওপেন করতে নামা আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন। তবে তার বিদায়ের পর আরসিবির রানের গতি কমে যায়। ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং রজত পাটিদার চেষ্টা করলেও হায়দ্রাবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তা ছিল নিতান্তই কম। নির্ধারিত ২০ ওভারে আরসিবি ৪ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং ৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়।
বোলারদের প্রশংসায় প্যাট কামিন্স
ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সানরাইজার্স অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের পারফরম্যান্সে অত্যন্ত সন্তুষ্ট বলে জানান। কামিন্স বলেন, ‘আমাদের ব্যাটাররা অসাধারণ খেলেছে এবং বোলাররাও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ইশান মালিঙ্গা এবং সাকিব হোসেনের বোলিং দেখাটা একজন অধিনায়ক হিসেবে সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।’
বিশেষ করে ইশান মালিঙ্গার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কামিন্স। তিনি বলেন, ‘ইশান পুরো আসর জুড়ে দুর্দান্ত বল করেছে, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে। তার স্লোয়ার এবং বৈচিত্র্যময় বোলিং তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ফর্মে থাকা বোলার করে তুলেছে। সাকিবও দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছে। এমন বোলারদের পাওয়া একজন অধিনায়কের স্বপ্নের মতো।’
পরবর্তী লক্ষ্যের দিকে হায়দ্রাবাদ
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কামিন্স উল্লেখ করেন যে, এখন তাদের হাতে কয়েক দিনের বিরতি আছে। তারা এই সময়টা বিশ্রাম নিয়ে নতুন চণ্ডীগড়ের মাঠে পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেবেন। প্লে-অফের আগে এই জয় হায়দ্রাবাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে হতে চলেছে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্ধারিত হয়ে যাবে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ যেভাবে খেলছে, তাতে তারা ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল।