‘A brand to admire but it comes at a cost’ – Moody wants SRH to invest in bowler – আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলিং সংকট: টম মুডির বিশ্লেষণ
Contents
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের নতুন ব্র্যান্ড: সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ) তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেট ভক্তদের নজর কেড়েছে। লিগ পর্যায়ে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। তবে এলিমিনেটর ম্যাচে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই দলের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। প্রাক্তণ কোচ টম মুডি মনে করেন, হায়দ্রাবাদের এই আক্রমণাত্মক ব্র্যান্ডটি প্রশংসার যোগ্য হলেও, এর পেছনে একটি বড় মূল্য দিতে হচ্ছে দলকে।
ব্যাটিং বনাম বোলিংয়ের ভারসাম্যহীনতা
হায়দ্রাবাদের টপ অর্ডার এই মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল। হেনরিক ক্লাসেন, ইশান কিশান এবং অভিষেক শর্মা রান পাহাড়ে দলের অবদান রেখেছেন। ট্রাভিস হেডও তার চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজে খেলেছেন। তবে মুডির মতে, দলটি তাদের সমস্ত অর্থ এবং মনোযোগ ব্যাটিং ইউনিটের পেছনে ব্যয় করে ফেলেছে। এর ফলে বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বা সঠিক মানের বোলার নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
বোলিং ইউনিটের করুণ দশা
আইপিএলে বড় ট্রফি জিততে হলে বোলারদের ভূমিকা অপরিসীম। হায়দ্রাবাদের হয়ে ইশান মালিঙ্গা এবং সাকিব হোসেন কিছু সাফল্য পেলেও, তাদের ইকোনমি রেট নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়। টম মুডির মতে, বর্তমান এসআরএইচ দলে একজন নির্ভরযোগ্য স্পিনারের অভাব প্রকট। প্যাট কামিন্সের মতো বড় নাম থাকলেও, সামগ্রিকভাবে বোলিং ইউনিটটি এখনও অপূর্ণাঙ্গ। অন্যদিকে, হর্ষল প্যাটেলের মতো অভিজ্ঞ বোলারও এই মৌসুমে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।
টম মুডির পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ
মুডি মনে করেন, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি) দল যেভাবে ভারসাম্য বজায় রেখেছে, হায়দ্রাবাদের উচিত তা অনুসরণ করা। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের এই ব্র্যান্ডটি দারুণ, তবে স্যালারি ক্যাপের কথা মাথায় রেখে বোলিং ইউনিটকেও সমান শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’ আম্বাতি রাইডুও মুডির সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন যে, কেবল পাওয়ার হিটিং দিয়ে আইপিএল জয় কঠিন। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারার মতো বোলিং আক্রমণ গড়ে তোলাই এখন হায়দ্রাবাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তরুণ তুর্কিদের উত্থান: আশার আলো
বোলিং নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, কোচ জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন দলের তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। শিবং কুমার, প্রফুল হিঙ্গে এবং সাকিব হোসেনের মতো তরুণরা এবারের আইপিএলে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে নীতিশ কুমার রেড্ডির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। ফ্র্যাঙ্কলিন জানান, ‘আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের এই উত্থান ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সম্পদ হবে।’
পরবর্তী আইপিএলের লক্ষ্য
মৌসুম শেষে এখন দলগুলোর জন্য রিটেনশন এবং নিলামের সময়। হায়দ্রাবাদ ম্যানেজমেন্টকে এখন স্থির করতে হবে যে, তারা কি তাদের বর্তমান ব্যাটিং-নির্ভর দর্শন বজায় রাখবে, নাকি বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটাতে নতুন কৌশল গ্রহণ করবে। এলিমিনেটরে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে, আগামী আসরে এসআরএইচ কীভাবে তাদের দলের ভারসাম্য ফেরায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।