ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে আবাহনীর বিশাল জয়
Contents
আবাহনীর দাপুটে জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে আবারও জয় তুলে নিল আবাহনী লিমিটেড। ঢাকার মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবাহনীর একক আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এই জয়কে আরও স্মরণীয় করে রেখেছে।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যাটিং বিপর্যয়
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন এবং ৩৩ বলে ৩১ রান করেন। অপর ওপেনার শাদমান ইসলাম ২৫ বলে ১৭ রান সংগ্রহ করেন। এরপর ইমরুল কায়েস দলকে কিছুটা থিতু করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ৪৯ বলে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। মিডল অর্ডারে নাসিম হোসেন ৫৮ বলে ৫৬ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গ পাননি। ফলে ৪২.১ ওভারে মাত্র ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংকের ইনিংস।
আবাহনী বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং
আবাহনীর বোলাররা শুরু থেকেই ছিল বেশ ছন্দে। বিশেষ করে খালেদ আহমেদ বল হাতে দারুণ কিপটেমি দেখিয়েছেন। তিনি ৮ ওভার বল করে মাত্র ২১ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন। পুরো দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই অগ্রণী ব্যাংক বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়।
শান্তর বীরত্বে সহজ লক্ষ্য পূরণ
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৮ রানেই জিশান আলমের উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছিল আবাহনী। কিন্তু এরপরই শুরু হয় নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের রাজত্ব। দুজনে মিলে অবিচ্ছিন্ন ১৭১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচকে একপেশে করে তোলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৯৩ বলে অনবদ্য ১০৮ রানের একটি ক্লাস ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চার ও ছয়ের ফুলঝুরি। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, যিনি ৮৬ বলে ৫৬ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
আবশষে ৩১.৪ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আবাহনী। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল দলটি। শান্তর এমন বিধ্বংসী ব্যাটিং দলের ড্রেসিংরুমে এনে দিয়েছে বাড়তি স্বস্তি।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান:
- ফলাফল: আবাহনী ৯ উইকেটে জয়ী।
- নাজমুল হোসেন শান্ত: ১০৮ রান (অপরাজিত)।
- মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন: ৫৬ রান (অপরাজিত)।
- খালেদ আহমেদ: ৮ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট।
পুরো ম্যাচজুড়ে আবাহনীর যে পেশাদারিত্ব এবং মাঠের পারফরম্যান্স দেখা গেছে, তা এবারের ডিপিএল শিরোপা লড়াইয়ে তাদের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে শান্তর ফর্মে ফেরা তাদের ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমান ফর্ম আবাহনীকে জয়ের ধারায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।