অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটই আমার প্রধান অগ্রাধিকার: প্যাট কামিন্স
Contents
প্যাট কামিন্সের অঙ্গীকার: দেশ সবার আগে
আধুনিক ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের যুগে যখন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এক ভিন্ন বার্তা দিলেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছর তার কাছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিবেদন
দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে কামিন্স বলেন, ‘আমার কাছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটই এক নম্বর অগ্রাধিকার, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট। অধিনায়ক হিসেবে আমি কোনো টেস্ট ম্যাচ মিস করতে চাই না এবং যতটা সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার চেষ্টা করি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে আইপিএল তার ছুটির সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে সেটি তার জন্য সুবিধাজনক, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তিনি মনোযোগ সরাতে রাজি নন।
শারীরিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
গত কয়েক বছরে কামিন্স বেশ কিছু সাদা বলের ক্রিকেট মিস করেছেন, যার মূল কারণ ছিল তার পিঠের ইনজুরি এবং টেস্ট ম্যাচের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখা। তিনি বলেন, ‘গত চার মাস আমি বেশ সতেজ বোধ করছি। পিঠের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছি। আগামী ১৮ মাসের চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেই আমরা খুব সতর্ক ছিলাম।’ উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ২০টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। এই দীর্ঘ যাত্রার জন্য নিজেকে ফিট রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য।
আইপিএল এবং ভবিষ্যৎ সূচি
২০২৭ সালের আইপিএল মৌসুমের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সূচি অত্যন্ত ঠাসা। ডিসেম্বর থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত সফরসহ ১০টি ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর পরপরই রয়েছে আইপিএল এবং জুনে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ সিরিজ। এমন ব্যস্ত সূচিতে কামিন্সের প্রাপ্যতা একটি বড় আলোচনার বিষয় হতে চলেছে।
বিগ ব্যাশ লিগ এবং প্রশাসনিক আলোচনা
বিগ ব্যাশ লিগের (বিজিএল) বেসরকারীকরণ বা এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে কামিন্স সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও খেলোয়াড়দের মনোভাব স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের ওপর ছেড়ে দেওয়া ভালো। আমরা চাই প্রতিযোগিতাটি যেন ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং নতুন খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়।’
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা
- ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে কামিন্স মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন।
- ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে তিনি আর কোনো টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি।
- গত দুই বছরে তিনি মূলত নিজের শরীরকে টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।
পরিশেষে, কামিন্সের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ক্রিকেটের অস্থির সময়েও জাতীয় দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা অটুট। তার এই দৃঢ়তা কেবল অস্ট্রেলিয়ার জন্যই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একজন পেস বোলার হিসেবে টানা টেস্ট খেলা সহজ নয়, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকলে তা যে সম্ভব, কামিন্স নিজেই তার বড় প্রমাণ।
আগামী দিনগুলোতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (FTP) এবং কামিন্সের শারীরিক সক্ষমতা কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, নীল জার্সি পরে মাঠে নামার জন্য তিনি সর্বদা প্রস্তুত।