Ollie Robinson was ‘nowhere near ready for Ashes’ despite stunning comeback disp
Contents
লর্ডসে ওলি রবিনসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ আড়াই বছরের ব্যবধান পেরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই যেন নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন ওলি রবিনসন। লর্ডসের পিচে তার ওবল-সিম বোলিংয়ের সামনে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করতে দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের। তবে মাঠে এই অভাবনীয় পারফরম্যান্সের পরেও রবিনসন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, অ্যাশেজ সিরিজের সময় তিনি মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।
অবিশ্বাস্য সেই স্পেল
ম্যাচের প্রথম দিনেই ১৬টি উইকেট পতনের সাক্ষী ছিল লর্ডস। কিন্তু দিনের শেষ দিকে রবিনসনের বোলিং ছিল দেখার মতো। প্রথম ওভারেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম ছয় ওভারের স্পেলে চার উইকেট নিয়ে কিউইদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই ডানহাতি পেসার। কেন উইলিয়ামসনের মতো ব্যাটারকে শূন্য রানে ফিরিয়ে লর্ডসের গ্যালারিতে তৈরি করেছিলেন এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা।
নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে রবিনসন বলেন, ‘গ্যালারির গর্জন ছিল অবিশ্বাস্য। দ্বিতীয় উইকেটটি পাওয়ার পর লর্ডসে আমি এর চেয়ে জোরালো আওয়াজ আগে কখনো শুনিনি। আমার পা কাঁপছিল, আমি শুধু মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।’
অ্যাশেজ প্রসঙ্গে রবিনসনের স্বীকারোক্তি
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের ৪-১ ব্যবধানে হারের সময় রবিনসনকে কি দলে নেওয়া যেত? দলের পেস আক্রমণের নেতা হিসেবে তিনি কি পার্থক্য গড়ে দিতে পারতেন? এ বিষয়ে রবিনসন জানান, ‘সত্যি বলতে, তখন আমি খেলার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলাম না। গত কয়েক মাসেই আমি ক্রিকেটের আনন্দ ফিরে পেয়েছি এবং নিজের ফিটনেস ও মানসিক অবস্থার উন্নতির দিকে মনোযোগ দিয়েছি।’
বোলিং মস্তিষ্কের প্রয়োগ
রবিনসন কেবল গতির ওপর নির্ভর করেননি, বরং লর্ডসের পিচকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি জানান, ‘আমরা নিউজিল্যান্ডের বোলিং দেখেছিলাম। আমি খেয়াল করলাম তাদের সোজা বলের চেয়ে ওবল বল পিচ থেকে দ্রুত সাড়া দিচ্ছে। গাস অ্যাটকিনসনের সাথে আলোচনা করেই আমি টম ল্যাথামের বিপক্ষে সেভাবে বোলিং করেছি। এই কৌশলটিই কার্যকর হয়েছে।’
বেন স্টোকসের সমর্থন ও নতুন জার্সি নম্বর
এই টেস্টে রবিনসনকে দেখা গেছে ১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামতে, যা সাধারণত অধিনায়কের জন্য নির্ধারিত থাকে। তবে বেন স্টোকস তাকে এই নম্বরটি ব্যবহারে কোনো বাধা দেননি। রবিনসন জানান, ‘এটি আমার প্রিয় সংখ্যা এবং আমার জন্মদিনের সাথে সম্পর্কিত। স্টোকস আমাকে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, দলে ফিরে আসাটা দারুণ, তবে পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে।’
ভবিষ্যতের পথচলা
নিজেদের দলের ব্যাকরুম স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রবিনসন বলেন, ‘আমি নিজেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ বোলার মনে করি না। আমার দক্ষতার অভাব ছিল না, সমস্যা ছিল ফিটনেস নিয়ে। রবার্ট কি এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ফোন পাওয়ার পর থেকেই আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। এই দিনটি বিশেষ, কিন্তু আমার সামনে এখনো অনেকটা পথ বাকি।’
ওলি রবিনসনের এই প্রত্যাবর্তনের গল্পটি মূলত ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। লর্ডসে তার এই জাদু কি ইংল্যান্ডের পেস বোলিং আক্রমণের নতুন যুগের সূচনা করছে? সময় তা বলে দেবে। তবে আপাতত, ক্রিকেটের মক্কায় এই পেসার তার জাত চিনিয়ে দিলেন নতুন করে।