Laxmi Ratan Shukla set to continue as Bengal coach; new roles for Wriddhiman Sah – বাংলার কোচ হিসেবে বহাল লক্ষ্মী রতন শুক্লা, নতুন ভূমিকায় ঋদ্ধিমান ও মনোজ তিওয়ারি
Contents
বাংলার ক্রিকেট কোচিংয়ে বড় চমক
আগামী ঘরোয়া ক্রিকেট মরশুমকে সামনে রেখে বাংলার কোচিং সেটআপে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি) বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবথেকে বড় খবর হলো, প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার লক্ষ্মী রতন শুক্লার ওপরই ভরসা রাখছে সিএবি।
সিনিয়র দলে অব্যাহত লক্ষ্মী রাজত্ব
গত কয়েক মরশুমে লক্ষ্মী রতন শুক্লার অধীনে বাংলার পারফরম্যান্স সিএবি কর্তাদের নজর কেড়েছে। তার কোচিংয়ে বাংলা দুইবার রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনাল এবং একবার ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে। দলের ড্রেসিংরুমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাই সিএবি কর্তারা লক্ষ্মীকেই সিনিয়র পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লক্ষ্মীর হাত ধরে বাংলা ক্রিকেট যে সাফল্যের পথে হাঁটছে, তা আগামী দিনেও বজায় থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নতুন ভূমিকায় ঋদ্ধিমান ও মনোজ
শুধু সিনিয়র দল নয়, বাংলার বয়সভিত্তিক দলগুলোতেও আসছে বড় পরিবর্তন। অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঋদ্ধিমান সাহা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন প্রাক্তন পেসার সাবির আলি। অন্যদিকে, রাজনীতির মাঠ থেকে অবসর নিয়ে ক্রিকেট কোচিংয়ে নতুন ইনিংস শুরু করছেন মনোজ তিওয়ারি। সিএবি তাকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেছে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর কোচিংয়ে মনোজের এটিই প্রথম বড় কোনো দায়িত্ব।
সহকারী কোচ হিসেবে সুরেন্দ্র ভাবে
সিনিয়র দলের ব্যাটিং কোচ ও সহকারী কোচ হিসেবে মুম্বইয়ের অভিজ্ঞ কোচ সুরেন্দ্র ভাবে যোগ দিতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ব্যাটিং টেকনিকের ওপর তার অগাধ জ্ঞান বাংলার ব্যাটারদের উন্নতির জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সৌরভাশীষ লাহিড়ীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই কিছুটা বিস্ময়কর। গত কয়েক বছরে তিনি বাংলার অন্যতম সফল কোচ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। যদিও ভবিষ্যতে তাকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সিএবি বিবেচনা করতে পারে।
শন টেট কি বাংলার ডাগআউটে?
বর্তমানে বাংলার সিনিয়র দলের বোলিং কোচের পদটি এখনও ফাঁকা রয়েছে। তবে এই পদের জন্য সবথেকে বড় নাম হিসেবে উঠে আসছে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ফাস্ট বোলার শন টেটের নাম। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন এবং ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সিএবির সঙ্গে আলোচনার পরেই তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করবেন। টেটের মতো বিশ্বমানের কোচ বাংলার সঙ্গে যুক্ত হলে তা ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি বড় সংযোজন হবে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
সিএবি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও নিয়োগপত্র ঘোষণা না করলেও, অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী বাংলার কোচিং স্টাফে আরও বড় কোনো বিদেশী মুখের আগমন হতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে সিএবি কর্তারা কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। লক্ষ্মী রতন শুক্লা, ঋদ্ধিমান সাহা এবং মনোজ তিওয়ারির মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে বাংলার তরুণ প্রতিভাদের দায়িত্ব তুলে দিয়ে একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আগামী দিনে রঞ্জি ট্রফি ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে বাংলা ক্রিকেট দল কতটা সাফল্য পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সামগ্রিকভাবে, বাংলার ক্রিকেটে এই নতুন কোচিং সেটআপ একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিজ্ঞ কোচ ও প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল বাংলার ভবিষ্যৎ ক্রিকেট তারকাদের জন্য এক নতুন দিশা তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে ক্রিকেট প্রেমীরা বিশ্বাস করেন।