বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ক্ষুব্ধ কামরান আকমল
Contents
পাকিস্তান ক্রিকেটের বিপর্যয়: কামরান আকমলের তীব্র ক্ষোভ
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ০-২ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট এখন এক গভীর সংকটে। এই ব্যর্থতার পর সাবেক উইকেটরক্ষক কামরান আকমল নিজের হতাশা ও ক্ষোভ গোপন করেননি। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামো এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অদূর ভবিষ্যতে উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য
সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ৭৮ রানের জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টেও তারা ১০৪ রানের বড় জয় পেয়েছিল। কামরান আকমল প্রথমেই বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও তাদের পুরো জাতিকে অনেক অভিনন্দন। সব ধরনের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা তাদের বেসিক ঠিক রেখেছে, যা এক বিশাল অর্জন।’
ব্যর্থতার কারণ: খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও বোর্ডের হস্তক্ষেপ
আকমল ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে। তিনি বলেন, ‘লজ্জা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। গত ছয়-সাত বছর ধরে একই কথা বলে আসছি, কিন্তু কিছুই পরিবর্তন হয়নি।’ তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যেসব ব্যক্তি ক্রিকেটের সাথে সরাসরি জড়িত নন, তাদের অহংবোধ এবং অযৌক্তিক হস্তক্ষেপই দলের বারোটা বাজাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা থাকে না, কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট শুরুর সময় এলেই তাদের ফিটনেস সংক্রান্ত অজুহাত শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘পিএসএলের সময় কাউকে কখনো আনফিট হতে দেখি না। যখন মানসিকতা এমন হয়, তখন ক্রিকেট কীভাবে উন্নত হবে?’
ফিটনেস স্ট্যান্ডার্ড ও খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার
আকমল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান ফিটনেস মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, একজন খেলোয়াড় যিনি প্রচুর রান করতে পারেন বা লম্বা সময় বোলিং করতে পারেন, তাকে মাত্র একটি জাম্প টেস্টে ব্যর্থতার কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া অন্যায়। তিনি বলেন, ‘যারা ক্রিকেট বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদের আগে নিজেদের দিকে তাকানো উচিত।’
ভারতের সাথে তুলনা ও ভবিষ্যতের অন্ধকার পথ
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উদাহরণ টেনে আকমল বলেন, শিখর ধাওয়ান, অজিঙ্কা রাহানে বা চেতেশ্বর পূজারার মতো অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট নীতি ছিল। কিন্তু পাকিস্তানে এখনো বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দল গঠন করা হয়। দলের চেয়ে বন্ধুত্বকে প্রাধান্য দেওয়াটাই পাকিস্তানের হারের একটি বড় কারণ।
ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। তিনি বলেন, ‘বাস্তবসম্মতভাবে বলতে গেলে, আগামী চার-পাঁচ বছরেও আমি পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা দেখি না। যদি উন্নতি করতে হয়, তবে কঠিন ও বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে এই চিত্রই বজায় থাকবে।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপট
এই পরাজয়ের ফলে পাকিস্তান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে আট নম্বর অবস্থানে নেমে গেছে। টানা সাতটি অ্যাওয়ে টেস্ট ম্যাচে পরাজয় তাদের ব্যর্থতার গ্রাফ আরও দীর্ঘ করেছে। বাংলাদেশ এই জয়ের ফলে টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে, যেখানে পাকিস্তানের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন এখন সুদূরপরাহত। পাকিস্তানের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফর, যেখানে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের জন্য বড় পরীক্ষার বিষয় হতে যাচ্ছে।
পরিশেষে, পাকিস্তান ক্রিকেটের এই অন্ধকার সময়ে কামরান আকমলের এই বক্তব্য ক্রিকেট মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দল যদি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের অভাব দূর করতে না পারে, তবে অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের।