সিএসকে-এর কোচ হতে কেন অনিচ্ছুক বড় কোচেরা? বাধা এমএস ধোনি?
Contents
চেন্নাই সুপার কিংসের কোচ নির্বাচন ও ধোনি রহস্য
আইপিএলের মঞ্চে চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) দাপট দীর্ঘদিনের। তবে ২০২৬ সালের আইপিএল মৌসুমটি সিএসকে-র জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। ১৪টি ম্যাচ খেলে পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন দলকে। এই ব্যর্থতার পর দল পুনর্গঠন ও নতুন কোচ নিয়োগের আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, নতুন কোচ খুঁজতেই হিমশিম খাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ।
কেন কোচ হতে চাইছেন না অভিজ্ঞরা?
একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক হাই-প্রোফাইল কোচ চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এমএস ধোনির উপস্থিতি। অনেক কোচেরই আশঙ্কা, ধোনি দলে থাকলে দলের দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সম্ভাব্য কোচ জানিয়েছেন, ধোনি যতদিন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবেন, ততদিন তারা এই দায়িত্ব নিতে রাজি নন।
ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত
২০০৯ সাল থেকে স্টিফেন ফ্লেমিং সিএসকে-র প্রধান কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ধোনির সঙ্গে তার জুটি চেন্নাইকে পাঁচটি শিরোপা উপহার দিয়েছে। তবে গত তিন বছর ধরে দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচের দিকে। টানা তিনবার প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফ্লেমিংয়ের কোচিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লেমিংয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এমএস ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। ধোনির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ফ্লেমিংয়ের আগামী দিনগুলো।
ধোনির ভবিষ্যৎ ও আইপিএল ২০২৭
২০২৬ সালের আইপিএলে ধোনি পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। চোটের কারণে বেশ কিছু ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। তবুও তার বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে জল্পনা চলছে। ধোনি নিজের শেষ ম্যাচটি চিপকের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলতে চান, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি ২০২৭ সালের আইপিএলে খেলার কথা বিবেচনা করতে পারেন। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধোনির সম্পর্কের অবনতির গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের চিত্র
আইপিএল ২০২৬-এ চোট এবং দলের অসামঞ্জস্যতা সিএসকে-র পারফরম্যান্সকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মৌসুমের শুরুতে টানা তিনটি ম্যাচ হারার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি। মাঝপথে ছয়টি ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই জয়ী হয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে ছিল ধোনি-বাহিনী। কিন্তু শেষ তিনটি ম্যাচে হেরে আবারও পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তারা। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় পুরো মৌসুমে নেতৃত্ব দিলেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।
উপসংহার
চেন্নাই সুপার কিংস এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে ধোনির প্রতি আবেগের টান, অন্যদিকে দলের আধুনিকায়ন ও নতুন কোচিং স্টাফের প্রয়োজনীয়তা—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সিএসকে কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, আগামী মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংস কোন পথে হাঁটে এবং ডাগআউটে নতুন কোনো মুখ দেখা যায় কি না। ধোনির ছায়ায় কি নতুন কোনো কোচ কাজ করতে রাজি হবেন? নাকি ধোনির বিদায়ের পরই সিএসকে-তে নতুন যুগের সূচনা হবে, সে উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে।