আইপিএল ২০২৬: প্লে-অফ থেকে ছিটকে গিয়েও লখনউ সুপার জায়ান্টসকে নিয়ে সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী আম্বাতি রাইডুর
Contents
আইপিএল ২০২৬-এর ব্যর্থতা ও আম্বাতি রাইডুর সাহসী বিশ্লেষণ
আইপিএল ২০২৬-এর আসর থেকে লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি) ছিটকে পড়েছে বেশ আগেই। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা লখনউয়ের জন্য এই মৌসুমটি ভুলে যাওয়ার মতো। তবে প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার আম্বাতি রাইডুর মতে, লখনউয়ের বর্তমান ফর্ম এবং খেলার ধরণ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো। তার দাবি, লখনউ যদি এখন প্লে-অফে খেলার সুযোগ পেত, তবে তারাই হতো এবারের আসরের সম্ভাব্য বিজয়ী।
কেন লখনউয়ের সম্ভাবনা নিয়ে এত আলোচনা?
মৌসুমের শুরুতে লখনউ সুপার জায়ান্টস দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। প্রথম তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয় তুলে নেওয়া দলটি হঠাৎই ছন্দ হারিয়ে ফেলে। মাঝপথে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে তারা টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত ছিটকে যায়। যদিও শেষ দিকে তারা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১২ ম্যাচে মাত্র ৪টি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দশম স্থানে অবস্থান করছে তারা। রাইডু মনে করেন, লখনউয়ের এই বর্তমান ফর্মটি টুর্নামেন্টের সেরা দলগুলোর চেয়েও ভালো। তিনি ইএসপিএনক্রিকইনফো-এর সাথে আলাপকালে জানান, বর্তমান লখনউ দলকে প্লে-অফের লড়াইয়ে রাখলে তারা অজেয় হয়ে উঠত।
জশ ইংলিসের প্রভাব ও ব্যাটিং লাইনআপের স্থিতিশীলতা
আম্বাতি রাইডু লখনউয়ের এই উন্নতির পেছনে জশ ইংলিসের অবদানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ সময় ইংলিস দলের বাইরে থাকলেও, ফিরে আসার পর তিনি ব্যাটিং লাইনআপে এক ধরণের ভারসাম্য এনে দিয়েছেন। রাইডুর কথায়, ‘ইংলিস আসার পর পুরো ব্যাটিং অর্ডারে স্থিতিশীলতা এসেছে। নিকোলাস পুরানও ফর্মে ফিরছেন, সব মিলিয়ে তাদের বর্তমান ব্যাটিং অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
লখনউয়ের ব্যাটিংয়ে মিচেল মার্শ ছাড়া বাকিরা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, শেষ ম্যাচগুলোতে তারা যে আগ্রাসন দেখাচ্ছে তা প্রশংসনীয়। রাইডু আরও যোগ করেন, ‘তারা এখন প্রতিটি ম্যাচেই ২০০ থেকে ২২০ রান করার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। তাদের বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে প্রিন্স যাদব এবং মহসিন খান দারুণ ফর্মে রয়েছেন।’
বাকি ম্যাচগুলোতে লখনউয়ের ভূমিকা
প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও লখনউয়ের সামনে এখন ‘পার্টি-পুপার’ বা অন্য দলের সমীকরণ নষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৩ মে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড লখনউতে তারা খেলবে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে। রাজস্থান এবং পাঞ্জাব—উভয় দলের জন্যই এই ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাইডুর মতে, রাজস্থান রয়্যালসের জন্য লখনউকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। তিনি মনে করেন, নিজেদের সামর্থ্যের বিচারে লখনউ এই মুহূর্তে রাজস্থানের চেয়েও এগিয়ে আছে।
উপসংহার
একটি হতাশাজনক মৌসুম অতিবাহিত করেও আম্বাতি রাইডুর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রশংসা লখনউ সুপার জায়ান্টস সমর্থকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাবে। এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের শেষ দুটি ম্যাচে লখনউ তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না। ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই ম্যাচগুলো যে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।