Dunkley, Kemp and Gibson star as England win three in three: ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জয়
Contents
- 1 ইংল্যান্ডের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা ও টানা তৃতীয় জয়
- 2 সোফিয়া ডাঙ্কলির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ও ক্যাপসির অবদান
- 3 কেম্প ও গিবসনের টর্নেডো জুটি
- 4 ক্রিস্টি গর্ডনের দ্বৈত ভূমিকা এবং স্কটল্যান্ডের ফিল্ডিং বিপর্যয়
- 5 সোফি এক্লেস্টোনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ম্যাচ জয়
- 6 বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
- 7 সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
ইংল্যান্ডের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা ও টানা তৃতীয় জয়
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। হেডিংলির চমৎকার আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩৮ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ইংলিশরা। এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে দলটি। বিশেষ করে সোফিয়া ডাঙ্কলির দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ দিকে ফ্রেয়া কেম্প ও দানি গিবসনের বিধ্বংসী জুটি ইংল্যান্ডকে ২০০ রানের পাহাড়সম পুঁজি এনে দেয়।
সোফিয়া ডাঙ্কলির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ও ক্যাপসির অবদান
নিয়মিত অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রন্টের পায়ের পেশির (calf injury) চোটের কারণে এই ম্যাচে দলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় ইংল্যান্ড। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামানো হয় সোফিয়া ডাঙ্কলিকে। চলতি টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে এই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগান ডাঙ্কলি। তিনি মাত্র ৩৭ বলে ৫৭ রানের একটি চমৎকার ও অত্যন্ত সময়োপযোগী ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ভর করেই ইংল্যান্ড বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
ডাঙ্কলির পাশাপাশি অ্যালিস ক্যাপসিও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি দলের পক্ষে ৪০ রানের একটি কার্যকারী ইনিংস খেলেন। ডাঙ্কলি এবং ক্যাপসির দায়িত্বশীল ব্যাটিং ইনিংসের মাঝপথে ইংল্যান্ডের রান রেট সচল রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। অধিনায়ক না থাকলেও দলের ব্যাটিং লাইন-আপ যে কতটা গভীর এবং নির্ভরযোগ্য, তা এই দুই ব্যাটার প্রমাণ করে দিয়েছেন।
কেম্প ও গিবসনের টর্নেডো জুটি
ইনিংসের শেষ দিকে ইংল্যান্ড যখন দ্রুত রান তোলার চাপে ছিল, তখন উইকেটে আসেন ফ্রেয়া কেম্প ও দানি গিবসন। এই দুই অলরাউন্ডার স্কটিশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালান। ষষ্ঠ উইকেটে তারা মাত্র ২১ বলে অপরাজিত ৬১ রানের এক অবিশ্বাস্য জুটি গড়েন। এই জুটির ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়।
ফ্রেয়া কেম্প ৩৯ রানে এবং দানি গিবসন ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের এই ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে শেষ ওভারগুলোতে রান তোলার গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। হেডিংলির গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের জন্য এই দুই তরুণীর ব্যাটিং ছিল এক দারুণ উপভোগ্য দৃশ্য। এই ঝোড়ো ফিনিশিংয়ের কারণেই ম্যাচটি পুরোপুরি ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
ক্রিস্টি গর্ডনের দ্বৈত ভূমিকা এবং স্কটল্যান্ডের ফিল্ডিং বিপর্যয়
এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক ছিল স্কটল্যান্ডের ক্রিস্টি গর্ডনের বোলিং। একসময় ইংল্যান্ডের জার্সিতে খেলা এই স্পিনার এবার বিশ্বকাপে তার পুরোনো সতীর্থদের বিপক্ষে মাঠে নামেন। নিজের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিয়ে তিনি স্কটল্যান্ড শিবিরে আনন্দের জোয়ার এনেছিলেন। পুরো ম্যাচে তিনি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ২ উইকেট নেন ৩০ রানের বিনিময়ে। তবে গর্ডনের এই ভালো বোলিংকে ভেস্তে দিয়েছে স্কটল্যান্ডের দুর্বল ফিল্ডিং। একাধিক সহজ ক্যাচ মিস এবং গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতার কারণে তারা ইংল্যান্ডকে আলগা রান উপহার দেয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এরকম ভুল যে কতটা চড়া মূল্য দিতে পারে, স্কটল্যান্ড আজ তা হাড়েনহাড়ে টের পেয়েছে।
সোফি এক্লেস্টোনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ম্যাচ জয়
স্কটল্যান্ড যখন ১৬৩ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে চমৎকার ব্যাটিং করছিল, তখন ইংল্যান্ডের বোলাররা কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। কিন্তু অধিনায়ক হিদার নাইট বল তুলে দেন দলের প্রধান অস্ত্র সোফি এক্লেস্টোনের হাতে। এক্লেস্টোন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট নিয়ে তিনি স্কটল্যান্ডের রানের গতিতে লাগাম টানেন এবং জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ড ৭ উইকেটে ১৬২ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং ইংল্যান্ড ৩৮ রানের স্বস্তিদায়ক জয় পায়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড নারী দল গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল। বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে কেম্প ও গিবসনের মতো ফিনিশারদের ফর্মে থাকা এবং ডাঙ্কলির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের রানে ফেরা নকআউট পর্বের আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে স্বস্তি দেবে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড হারলেও তাদের লড়াই করার মানসিকতা প্রশংসিত হয়েছে। পাওয়ারপ্লেতে তাদের ব্যাটিং ইংল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপের পরীক্ষা নিয়েছে। তবে ফিল্ডিংয়ের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে না নিলে সামনের ম্যাচগুলোতে তাদের জন্য পথ চলা আরও কঠিন হবে। ইংল্যান্ডের এই জয় দলটিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করল।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
- ইংল্যান্ড: ২০০/৫ (২০ ওভার) (ডাঙ্কলি ৫৭, ক্যাপসি ৪০, কেম্প ৩৯*, গিবসন ৩০*; গর্ডন ২-৩০)
- স্কটল্যান্ড: ১৬২/৭ (২০ ওভার) (এস. ব্রাইস ৩৪; এক্লেস্টোন ২-২৩)
- ফলাফল: ইংল্যান্ড ৩৮ রানে জয়ী।