Mitchell fifty guides New Zealand’s lead past 400 – ওভাল টেস্টে কিউইদের বিশাল লিড
ওভালের চতুর্থ দিনের সকালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ড নিজেদের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জোফরা আর্চারের আগ্রাসী বোলিং স্পেল সত্ত্বেও কিউইরা তাদের নিয়ন্ত্রণ আলগা হতে দেয়নি। সকালে আগের দিনের ২৫২ রান থেকে খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড আরও ৯৩ রান যোগ করে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৪৫ রান সংগ্রহ করেছে। এই অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যের সুবাদে ম্যাচটিতে Mitchell fifty guides New Zealand’s lead past 400 রান পেরিয়ে গেছে, যা ইংল্যান্ডের সামনে এক দুর্ভেদ্য লক্ষ্য স্থাপন করেছে। ড্যারিল মিচেল ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যান এবং ইংল্যান্ডকে এক অসম্ভব বিশ্বরেকর্ড তাড়া করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
Contents
জোফরা আর্চারের আক্রমণ এবং নিকোলসের বিদায়
চতুর্থ দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ে আগুন ঝরান জোফরা আর্চার। দিনের প্রথম বলেই তিনি উইকেট শিকারের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। ড্যারিল মিচেলের একটি ক্যাচ স্লিপ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা হ্যারি ব্রুকের হাতে গিয়েছিল, কিন্তু ডাইভ দিয়েও ব্রুক তা তালুবন্দী করতে পারেননি। তবে এই ভুলের মাশুল আর্চারকে বেশি সময় দিতে হয়নি। ঠিক পরের ওভারেই ব্রুককে দ্বিতীয় স্লিপে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আর্চারের বলে সেঞ্চুরিয়ান হেনরি নিকোলসের একটি তুলনামূলক সহজ ক্যাচ লুফে নেন তিনি। ১২১ রান করে নিকোলস প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে।
মিচেলের প্রতিরোধ এবং ফিফটি অর্জন
দিনের শুরুতে জীবন ফিরে পাওয়ার পূর্ণ ফায়দা তোলেন ড্যারিল মিচেল। জীবনদান পাওয়ার পর তিনি ইংরেজ বোলারদের ওপর চড়াও হন। বিশেষ করে জো রুটের বোলিংয়ের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। রুটের এক ওভারেই পরপর তিনটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি মেরে মিচেল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের আরও একটি চমৎকার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এই হাফ সেঞ্চুরিটি নিউজিল্যান্ডের রানের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে এবং ইংল্যান্ডের বোলারদের মানসিকভাবে পিছিয়ে দেয়।
ব্লান্ডেল-মিচেল জুটির ঐতিহাসিক মাইলফলক
নিকোলসের বিদায়ের পর ড্যারিল মিচেলের সাথে যোগ দেন টম ব্লান্ডেল। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে কিউইদের ইনিংসকে স্থিরতা প্রদান করেন। এই জুটির হাত ধরে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১,০০০ পার্টনারশিপ রান সংগ্রহকারী প্রথম নিউজিল্যান্ড জুটি হিসেবে নিজেদের নাম লেখান মিচেল ও ব্লান্ডেল। তবে এই জুটি খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। ২৯ রানের জুটি গড়ে ব্লান্ডেল বিদায় নেন। লেগ স্লিপে জো রুট ক্যাচটি ফেলে দিলেও জেমস রিউ রিবাউন্ড থেকে দারুণভাবে বলটি লুফে নিয়ে ব্লান্ডেলকে সাজঘরের পথ দেখান।
আর্চারের দীর্ঘ স্পেল এবং ফিলিপসের উইকেট
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার জোফরা আর্চার আজ সকালে অত্যন্ত পরিশ্রমী বোলিং করেছেন। প্যাভিলিয়ন এন্ড থেকে প্রথম নয়টি ওভারের মধ্যে আটটি ওভারই তিনি একাই করেন। পাঁচ এবং তিন ওভারের দুটি স্পেলে তিনি কিউই ব্যাটারদের ক্রমাগত পরীক্ষা নিয়ে গেছেন। তার এই নিরলস বোলিংয়ের পুরষ্কার মেলে যখন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান গ্লেন ফিলিপসকে তিনি আউট করেন। গালিতে ফিলিপসের একটি অসাধারণ ক্যাচ লুফে নেন জ্যাকব বেথেল। ফিলিপসের বিদায়ে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩১১ রান।
নাথান স্মিথের আক্রমণাত্মক ক্যামিও
ফিলিপসের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাথান স্মিথ। এসেই তিনি দলের রান রেট বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হন। জ্যাকব বেথেলের বাঁহাতি স্পিন বোলিংয়ের ওপর চড়াও হয়ে স্মিথ ব্যাক-টু-ব্যাক বাউন্ডারি হাঁকান—যার মধ্যে একটি ছিল লং-অনের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা এবং অন্যটি ছিল ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার। ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বে কিছুটা কৌশলগত ঘাটতিও দেখা গেছে, যখন তারা ৮১তম ওভারে দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যায়। এর বদলে তারা ম্যাট ফিশারকে বল করতে পাঠায়, যিনি সকালে মাত্র ২ ওভার বল করেছিলেন। স্মিথ এই সুযোগ হাতছাড়া না করে ফিশারের বলকে ফাইন লেগ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান। স্মিথের এই ক্যামিও ইনিংসের কল্যাণে লাঞ্চের আগেই নিউজিল্যান্ডের লিড ৪৪৫ রানে গিয়ে ঠেকেছে।
ডিক্লেয়ারেশন এবং ইংল্যান্ডের সামনে কঠিন সমীকরণ
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম কত রানে ইনিংস ঘোষণা করবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে ইতিমধ্যেই ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ইংল্যান্ডকে এই ম্যাচে জয় পেতে হলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার এক অতিমানবীয় বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে। সিরিজটিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের অলৌকিক কিছু করে দেখাতে হবে, যা ওভালের এই স্পিন ও বাউন্সি উইকেটে অত্যন্ত দুরূহ কাজ। চতুর্থ সেশনের পর কিউইদের ফিল্ডিংয়ে নামার সিদ্ধান্তের ওপর এখন পুরো ম্যাচের ভাগ্য ঝুলে আছে।