George, Austin plunder Lancashire to land third win in a row
Contents
ওয়ারউইকশায়ারের দাপুটে জয়
মেট্রো ব্যাংক ওয়ান ডে কাপে ওয়ারউইকশায়ার তাদের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখেছে। পোর্টল্যান্ড রোডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ২০ রানের জয় তুলে নিয়েছে তারা। মেগ অস্টিন এবং কেটি জর্জের ব্যাটিং তাণ্ডবে ভর করে ওয়ারউইকশায়ার বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়, যা শেষ পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের জন্য পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভের গৌরব অর্জন করল।
অস্টিন ও জর্জের ব্যাটিং প্রদর্শনী
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়ারউইকশায়ার। তবে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না তাদের। দলীয় স্কোরে কোনো রান যোগ করার আগেই কেইট ক্রসের বলে আমু সুরেনকুমার সাজঘরে ফেরেন। এরপর জর্জিয়া রেডমেইন কিছুটা লড়াই করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে এরপরই শুরু হয় আসল নাটক। মেগ অস্টিন এবং কেটি জর্জ ক্রিজে থিতু হয়ে বসেন। তারা তৃতীয় উইকেটে ১৬৬ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অস্টিন ১৩৭ বলে ১১৬ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, কেটি জর্জ বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করে মাত্র ৯৭ বলে ১২৭ রান সংগ্রহ করেন। এই দুই ব্যাটারের ক্লাসি ব্যাটিংয়ে ওয়ারউইকশায়ার নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায়। ল্যাঙ্কাশায়ারের ফিল্ডিং কিছুটা দুর্বল ছিল, বিশেষ করে ইভ জোন্স এবং ড্যানিয়েল কলিন্স সহজ কিছু ক্যাচ মিস করায় অস্টিন ও জর্জের কাজটা আরও সহজ হয়ে যায়।
ল্যাঙ্কাশায়ারের লড়াই ও ইভ জোন্সের সেঞ্চুরি
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ার লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে ইভ জোন্স একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন। ওপেনার ইভ জোন্স ১১৫ বলে ১১৩ রানের একটি চমৎকার সেঞ্চুরি করেন। এম্মা ল্যাম্বকে সাথে নিয়ে তিনি ৯৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। ল্যাম্ব ৪০ রান করে বিদায় নিলেও জোন্স এক প্রান্ত আগলে রাখেন।
ম্যাচের মাঝপথে ওয়ারউইকশায়ারের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ায়। চারিস প্যাভেলি এবং ফিবি বেল ল্যাঙ্কাশায়ারের মিডল অর্ডারে ধস নামান। প্যাভেলি ৪ উইকেট শিকার করে ল্যাঙ্কাশায়ারের জয়ের স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেন। যদিও ইভ জোন্স হ্যানা বেকারের ওভারে ১৫ রান নেন এবং আলেক্সা স্টোনহাউসের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের শতরান পূর্ণ করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
বল হাতে ওয়ারউইকশায়ারের আধিপত্য
ওয়ারউইকশায়ারের জয়ের পেছনে বোলারদের অবদান অনস্বীকার্য। ফিবি বেল দুর্দান্ত বোলিং করে ৩ উইকেট শিকার করেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের শেষ দিকে পটস কিছুটা লড়াই করলেও (২৬ বলে ৩৪ রান) ওয়ারউইকশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ল্যাঙ্কাশায়ার ২৯৪ রানেই আটকে যায়। অধিনায়ক জর্জিয়া ডেভিস চমৎকার নেতৃত্ব দেন এবং ফিল্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই জয় ওয়ারউইকশায়ারের জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিযোগিতায় এটি তাদের পঞ্চম জয় এবং টানা তৃতীয় সাফল্য। যেভাবে দলের ব্যাটার এবং বোলাররা পারফর্ম করছে, তাতে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা যে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ারের জন্য এই পরাজয় অনেকগুলো ভুল শুধরে নেওয়ার বার্তা দিয়ে গেল।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণ
ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি ছিল একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। অস্টিন এবং জর্জের পার্টনারশিপ ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দৃষ্টান্ত হিসেবে টিকে থাকবে। পোর্টল্যান্ড রোডের এই জয় ওয়ারউইকশায়ারের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্ট এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর ওয়ারউইকশায়ার তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে টেবিলের উপরের দিকে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।