Ireland beat Bangladesh; Scotland thump Pakistan; NZ ace 184 chase vs SA – প্রস্তুতি ম্যাচের বিস্তারিত প্রতিবেদন
Contents
বিশ্বকাপের আগে শক্তির মহড়া
নারী টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দলগুলোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ক্রিকেট ভক্তদের বিনোদনের চরম মাত্রা এনে দিয়েছে। প্রস্তুতি পর্বের দ্বিতীয় দিনে আমরা দেখেছি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর কিছু ম্যাচ। যেখানে Ireland beat Bangladesh; Scotland thump Pakistan; NZ ace 184 chase vs SA ম্যাচের মতো ফলাফলগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্তমান প্রতিযোগিতা এবং দলগুলোর প্রস্তুতিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিটি ম্যাচেই ছিল ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং দলীয় লড়াইয়ের দারুণ সমাহার। মূল টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এই মঞ্চে প্রতিটি দলই তাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে মরিয়া ছিল।
আয়ারল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়: বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে আয়ারল্যান্ড এক পর্যায়ে গভীর সংকটে পড়েছিল। মাত্র ১১২ রানে তারা ৯টি উইকেট হারিয়ে ফেলে ১৮তম ওভারের মধ্যে। মনে হচ্ছিল আয়ারল্যান্ড হয়তো অত্যন্ত কম রানে গুটিয়ে যাবে। তবে ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন আভা ক্যানিং। শেষ দুই ওভারে তাঁর অপরাজিত ৮ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস আয়ারল্যান্ডকে ১৪৩ রানের একটি লড়াই করার মতো পুঁজিতে পৌঁছে দেয়। ক্যানিংয়ের এই ইনিংসে ছিল একটি চার এবং দুটি বিশাল ছক্কা। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন সানজিদা আক্তার মেঘলা, যিনি ২৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন এবং আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে ধস নামান।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৩৮ বলে ৫০ রানের একটি দুর্দান্ত অর্ধশতক হাঁকান। তবে চার নম্বরে নামা শারমিন আক্তার ৪০ বল খেলে মাত্র ২৭ রান করায় রানের গতি ধীর হয়ে যায়। ১৫তম ওভারের শেষে যখন শারমিন আউট হন, তখন বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৮ রান, যা আধুনিক টি২০ ক্রিকেটে অত্যন্ত সহজসাধ্য বলেই মনে করা হয়। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বোলার এইমি ম্যাগুয়ার ১৭তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। শেষ ওভারে স্বর্ণা আক্তার এবং নাহিদা আক্তার একটি করে ছক্কা মারলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৩২ রানে থামে এবং আয়ারল্যান্ড ১১ রানের দারুণ এক জয় পায়। ম্যাগুয়ার ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের জয়ের প্রধান কারিগর হন।
স্কটল্যান্ডের চমক: পাকিস্তানের ওপর ছড়ি ঘোরালেন ক্যাথরিন ব্রাইস
ডার্বিতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্কটল্যান্ড এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। টসে জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে স্কটল্যান্ড। তবে পাকিস্তানের বোলাররা স্কটিশ ব্যাটারদের ওপর কোনো চাপই সৃষ্টি করতে পারেনি। সাদিয়া ইকবাল ছাড়া পাকিস্তানের সকল বোলারের ইকোনমি রেট ছিল ওভার প্রতি ৮ বা তার বেশি। সাদিয়া ইকবাল ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন।
স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক ক্যাথরিন ব্রাইস এদিন ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান। মাত্র ৪৩ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। ২১৮.৬০ স্ট্রাইক রেটের এই ইনিংসে ছিল ১১টি চার এবং ৩টি ছক্কা। ব্রাইসের এই একক প্রচেষ্টায় স্কটল্যান্ড ৫ উইকেটে ১৮৭ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে। দলের অন্য ব্যাটারদের মধ্যে কেবল ওপেনার ডার্সি কার্টার ৩৫ বলে ৪৫ রান করে ২০ রানের কোটা পার করতে পেরেছিলেন।
জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে। ওপেনার মুনিবা আলী ২২ বলে ২০ রান করেন, যা ছিল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। নবম ওভারের মাঝামাঝি সময়ে মুনিবা আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৫৭ রান। এরপর বৃষ্টি শুরু হলে খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। বৃষ্টি যখন খেলা বন্ধ করে, তখন ডিএলএস পদ্ধতিতে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০৭ রান, কিন্তু তারা মাত্র ৬২ রান করতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে স্কটল্যান্ড ডিএলএস পদ্ধতিতে ৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। স্কটল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে স্লেটার ১১ রানে ২টি এবং অ্যাবেল ৯ রানে ১টি উইকেট নেন।
নিউজিল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৮৪ রান তাড়া করে কিউইদের দুর্দান্ত জয়
লফবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ড তাদের ব্যাটিং গভীরতা ও শক্তির এক অসাধারণ মহড়া প্রদর্শন করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৮৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মেলিয়া কের মাত্র ৩২ বলে ৬১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। কেরি তাঁর ইনিংসে ৯টি চার এবং ২টি ছক্কা মারেন। দ্বিতীয় উইকেটে জর্জিয়া প্লামারের সাথে ৮২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন।
কের ও প্লামার দ্রুত বিদায় নিলেও নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য ব্যাটাররা হাল ছাড়েননি। সোফি ডিভাইন মাত্র ১৩ বলে ২৮ রান, ব্রুক হ্যালিডে ১৯ বলে ২১ রান এবং ম্যাডি গ্রিন ১৩ বলে ১৯ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ক্লো ট্রাইনের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। একপর্যায়ে ৮২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চাপে পড়েছিল। কিন্তু ট্রাইন এবং নাদিন ডি ক্লার্কের ৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। ট্রাইন মাত্র ৩টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন। বিশেষ করে নেনসি প্যাটেলের এক ওভারে তিনি টানা তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। ডি ক্লার্ক খেলেন ৪৬ রানের কার্যকর ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সোফি ডিভাইন ১৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।
শ্রীলঙ্কার সহজ জয়: নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে দিল লঙ্কানরা
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭ উইকেটের সহজ জয় দিয়ে নারী টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারলো শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ৬ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। দলের টপ-অর্ডার ব্যাটাররা ভালো শুরু করলেও মিডল ও লোয়ার অর্ডার তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। হিদার সিজার্স ৪৮ এবং স্টেরে ক্যালিস ৪৫ রান করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মাদারা ১২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।
১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে হাসিনি পেরেরার ২০ বলে ৩১ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কা দুর্দান্ত শুরু পায়। মাঝপথে নেদারল্যান্ডস দ্রুত কয়েকটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও হণ্সীমা করুণারত্নে তা হতে দেননি। করুণারত্নে অপরাজিত ৫৪ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন। হার্শিথা সামারাবিক্রমার (৩৬*) সাথে তাঁর ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শ্রীলঙ্কাকে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
উপসংহার
এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো প্রমাণ করে যে আসন্ন নারী টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। যেখানে ছোট দলগুলো বড় দলগুলোকে অনায়াসেই চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। মূল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে প্রতিটি দলের জন্যই এই ম্যাচগুলো নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার এবং শক্তি যাচাই করার একটি দারুণ সুযোগ ছিল। এই ম্যাচগুলোর ফলাফল দলগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে অত্যন্ত সাহায্য করবে এবং বিশ্বকাপের মূল পর্বে লড়াইয়ের আমেজ দ্বিগুণ করে দেবে।