Sciver-Brunt: ‘Pressure is a privilege’ for England’s World Cup homecoming
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্যই অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং একই সাথে অত্যন্ত চাপের। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে স্বাগতিক শিবিরের পরিবেশ ঠিক এমনই। শুক্রবার রাতে এজবাস্টনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ইংলিশ মেয়েরা। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের মানসিক প্রস্তুতি ও রণকৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট।
Contents
চাপকে সুযোগ হিসেবে দেখার মানসিকতা
ঘরের মাঠে খেলার অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও চাপকে কোনোভাবেই নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। তিনি অত্যন্ত পরিপক্বতার সাথে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, Sciver-Brunt: ‘Pressure is a privilege’ for England’s World Cup homecoming। তাঁর মতে, ফুটবল বিশ্বমঞ্চে লায়নেস (Lionesses) এবং রুগবিতে রেড রোজেস (Red Roses) যেভাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে, ক্রিকেট দলের ওপরেও ঠিক তেমন প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে নারী ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে আরও বড় একটি প্ল্যাটফর্মের অপেক্ষায় রয়েছে। আর আমরা সেই ১৫ জন সৌভাগ্যবান ক্রিকেটার, যারা এই সময়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি।’
সিভার-ব্রান্টের নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়েও এখন আর কোনো সংশয় নেই। গত অক্টোবরের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর তিনি ইনজুরিতে পড়েছিলেন। সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করে তিনি নিজের ফর্ম ও ফিটনেসের জানান দিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে ঘরের মাঠে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখছেন।
শ্রীলঙ্কার ‘আন্ডারডগ’ তকমা ও নির্ভীক ক্রিকেটের পরিকল্পনা
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু এই ম্যাচটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কাকতালীয়ভাবে, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতেই তিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলেছিলেন। আতাপাত্তু মনে করেন, ঘরের মাঠে খেলার কারণে সব চাপ থাকবে ইংল্যান্ড দলের ওপরই।
শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে আন্ডারডগ হিসেবে এসেছি, তাই আমাদের হারানোর কিছু নেই। তবে আমি জানি ইংল্যান্ডের ওপর কিছুটা চাপ থাকবে কারণ তারা নিজেদের ঘরের মাঠে এবং দর্শকদের সামনে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে। আমাদের ওপর এই ধরণের কোনো চাপ নেই, তাই আমরা আমাদের স্বাভাবিক এবং ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারব। যদি আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তবে আমরা যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং নতুন ইতিহাস গড়তে সক্ষম।’
ব্যাটিং অর্ডার ও দল নির্বাচন নিয়ে মধুর সমস্যা
ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস এখন দল নির্বাচন নিয়ে এক মধুর সমস্যায় পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দলের ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই মধুর সমস্যার সৃষ্টি করেছে। সোফিয়া ডাঙ্কলি প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি, কারণ তাঁর জায়গায় ড্যানি ওয়াট-হজের সাথে ওপেনিংয়ে খেলানো হয়েছিল অ্যামি জোন্সকে। জোন্স ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাট করে দারুণ একটি হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন, যা ২০২০ সালের পর তাঁর প্রথম তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল।
sideline এছাড়া অ্যালিস ক্যাপসিও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে এবং ভারতের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ভারতের বিপক্ষে ৫ রানে জেতা প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং লাইন-আপের বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয় যে, ইংল্যান্ড যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতে প্রস্তুত। অধিনায়ক সিভার-ব্রান্টও অ্যামি জোন্সের অভিজ্ঞতা ও ব্যাটিং বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেছেন এবং এটি দলের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট বলে উল্লেখ করেছেন।
তিন বাঁহাতি স্পিনারের বৈচিত্র্যময় আক্রমণ
ইংল্যান্ড দলের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের স্পিন বিভাগ। এবারের বিশ্বকাপে তারা তিনজন বিশ্বমানের বাঁহাতি স্পিনারকে স্কোয়াডে রেখেছে। অভিজ্ঞ সোফি একলেস্টোন ও লিনসি স্মিথের পাশাপাশি দলে ডাক পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী আনক্যাপড তরুণী টিলি কর্টিন-কোলম্যান। লিনসি স্মিথ সম্প্রতি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর স্থানে উঠে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর মাপা বোলিং এবং পাওয়ারপ্লেতে রান আটকে রাখার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ।
যদিও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি মাত্র এক উইকেট নিতে পেরেছিলেন, তবুও তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অন্যদিকে, সোফি একলেস্টোন এবং তরুণী টিলিও যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে লিনসি স্মিথ মনে করেন, স্কোয়াডে এমন সুস্থ প্রতিযোগিতা দলের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে।
তিন স্পিনারকে একসাথে খেলানোর সম্ভাবনা কতটা?
ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান কোচ জন লুইস এর আগে ২০২৪ সালে সাউদাম্পটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারজন স্পিনারকে (একলেস্টোন, স্মিথ, চার্লি ডিন এবং সারা গ্লেন) একসাথে খেলিয়েছিলেন। তবে বর্তমান হেড কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস দলের ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে তিন বাঁহাতি স্পিনারকে একসাথে খেলানোর ব্যাপারে কিছুটা রক্ষণশীল। অধিনায়ক সিভার-ব্রান্টও এই বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, ‘একই ম্যাচে তিন বাঁহাতি স্পিনারকে একাদশে রাখা বেশ কঠিন হবে। তবে আমাদের ১৫ সদস্যের দলের প্রত্যেকেই একাদশে খেলার যোগ্য। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সম্পদ যে আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরণের বিকল্প রয়েছে।’
উপসংহার
শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠের এই মহাযজ্ঞে ইংল্যান্ডের সফলতা নির্ভর করবে তারা চাপকে কতটা ভালোভাবে সামলাতে পারছে তার ওপর। প্রথম ম্যাচের ফলাফল পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে। ন্যাট সিভার-ব্রান্টের নেতৃত্বে ইংলিশ নারীরা এজবাস্টনে এক নতুন অধ্যায় রচনার উদ্দেশ্যে মাঠে নামবে, যেখানে প্রতিটি বল এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।