Australia seek response as Bangladesh close in on landmark series win
Contents
ঐতিহাসিক জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে
প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এখন টাইগারদের চোখের সামনে। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগই ছিল দুর্দান্ত। ওপেনিংয়ে সাঈফ হাসানের উইকেট দ্রুত পড়ার পর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দলের হাল ধরেন। তবে আসল পার্থক্য গড়ে দেন মোসাদ্দেক হোসেন। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে তিনি অপরাজিত ৮৬ রানের একটি ইনিংস খেলেন এবং বল হাতে তুলে নেন দুই উইকেট। তার এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
গতির ঝড় ও পেসারদের দাপট
বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী—তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার বোলিং ছিল দেখার মতো। ১৫০ কিমি গতিতে বল করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডারকে কোণঠাসা করে ফেলেন। তার চার উইকেট শিকার অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। অন্যদিকে, তাসকিন ও মুস্তাফিজ শুরুর দিকের উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং ছিল খুবই হতাশাজনক। মোসাদ্দেক হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্তর একাধিক ক্যাচ মিস করার মাশুল তাদের দিতে হয়েছে। ফিল্ডিংয়ের এই দুর্বলতা তাদের হারের অন্যতম কারণ ছিল। দলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা ক্যামেরন গ্রিন ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরি করলেও, তাকে আরও ওপরে খেলানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। অ্যালেক্স ক্যারি জানিয়েছেন, দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে তারা বদ্ধপরিকর।
দলের অবস্থা ও খেলোয়াড়দের ফর্ম
বাংলাদেশ দলের বর্তমান ফর্ম বেশ ঈর্ষণীয়। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ফর্ম বেশ নড়বড়ে। মোসাদ্দেক হোসেনের ফেরা বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের শূন্যতা পূরণ করেছে। তার ব্যাটিংয়ের বৈচিত্র্য, বিশেষ করে সুইচ-হিট অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিভ্রান্ত করেছে। অন্যদিকে, নাথান এলিস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল বোলার ছিলেন। নতুন বলে মুভমেন্ট এবং ডথ বলে উইকেট শিকার করে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখার চেষ্টা করেছেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও তার ওপর ভরসা রাখছে অজিরা।
সম্ভাব্য একাদশ ও পিচ কন্ডিশন
বাংলাদেশ দলের অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে। স্পিনার টড মারফি অথবা ম্যাথু কুনম্যানের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরের মতোই ব্যাটিং সহায়ক হওয়ার কথা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোর ২৮৪ হলেও, দল মনে করছে এখানে ৩২০ রান তোলা সম্ভব ছিল। তবে বৃহস্পতিবার ঢাকার আকাশের মেঘ এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
পরিসংখ্যান ও কিছু তথ্য
- মোসাদ্দেক হোসেন ৭ বছর পর ওয়ানডে ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।
- অ্যাডাম জাম্পা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম ৫ম পরিবর্তন হিসেবে বোলিং করেছেন।
- নাহিদ রানা এ বছর ৯ ম্যাচে ৩১ উইকেট শিকার করে ফাস্ট বোলারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য যেমন সিরিজ জয়ের সুযোগ, অস্ট্রেলিয়ার জন্য তেমনি সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। মিরপুরের মাঠে কি ইতিহাস গড়তে পারবে বাংলাদেশ, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা? উত্তর মিলবে আগামী ম্যাচেই।