Rehan Ahmed six-for pushes England case as Lions finally beat South Africa A
Contents
ইংল্যান্ড লায়ন্সের স্বস্তির জয়
অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটল। নিউ রোডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মতো জয়ের মুখ দেখল ইংল্যান্ড লায়ন্স। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে ছয় উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশরা। সিরিজের আগের ম্যাচগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের আধিপত্য থাকলেও, এই ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন রেহান আহমেদ ও জেমস কোলস।
রেহান আহমেদের ঘূর্ণি জাদু
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা এ। শুরুতেই টনি ডি জর্জিকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও লিয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল সফরকারীরা। প্রিটোরিয়াস ৫৭ বলে ৬৫ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তবে তার বিদায়ের পরেই শুরু হয় ইংল্যান্ড লায়ন্সের আসল আধিপত্য। লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ একাই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। তিনি ৩৪ রান খরচ করে ৬ উইকেট শিকার করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জেমস কোলস, যিনি ২৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন।
বোলারদের এই আগ্রাসী পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দল ৩১.৩ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায়। রেহান আহমেদের এই বিধ্বংসী বোলিং তাকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ইংল্যান্ড দলে বিবেচনার দাবি আরও জোরালো করেছে।
কোলসের ব্যাটে লক্ষ্যপূরণ
জয়ের জন্য ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড লায়ন্সের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। দলীয় ৭২ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। বেন ম্যাককিনি কিছু দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও কোয়েটজির বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। জেমস রিউ এবং আশা ট্রাইবও থিতু হতে ব্যর্থ হন। তবে একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন জেমস কোলস।
কোলস তার স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করেন। বেন মেসকে (অপরাজিত ১৭) সঙ্গে নিয়ে তিনি ৭৬ রানের একটি অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত ২৯তম ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড লায়ন্স। এই জয়টি ইংল্যান্ড লায়ন্স শিবিরের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা পুরো সিরিজ জুড়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে ছিল।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত
- রেহান আহমেদের ৬ উইকেট শিকার: দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল ও লোয়ার অর্ডারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি।
- জেমস কোলসের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স: ৩ উইকেটের পাশাপাশি অপরাজিত ৬৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস।
- বৃষ্টির প্রভাব: বৃষ্টির কারণে ম্যাচটিতে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতির সহায়তা নিতে হয়েছে।
- তরুণদের প্রাধান্য: প্রায় ১৬০০ স্কুলছাত্রের উপস্থিতিতে এই জয় ইংল্যান্ডের তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের জন্য এই পরাজয় কিছুটা বিস্ময়কর হলেও, ইংল্যান্ড লায়ন্সের ঘুরে দাঁড়ানো প্রমাণ করে যে এই দলের গভীরতা কতটা বেশি। বিশেষ করে রেহান আহমেদের মতো বোলারদের সাম্প্রতিক ফর্ম ইংলিশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য দারুণ আশাব্যঞ্জক।
উপসংহার
সিরিজের বাকি অংশ এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য এই জয় অনেক রসদ জোগাবে ইংল্যান্ড লায়ন্সকে। বোলিং এবং ব্যাটিং—উভয় বিভাগেই তারা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এখন দেখার বিষয়, রেহান আহমেদ তার এই ফর্ম আগামী টেস্ট সিরিজেও বজায় রাখতে পারেন কি না।