Gloucestershire make Short work of Yorkshire in Headingley victory
Contents
ভাইটালিটি ব্লাস্টে গ্লুচেস্টারশায়ারের দাপুটে জয়
চলতি মৌসুমের ভাইটালিটি ব্লাস্টে ছন্দময় দুই দলের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে গ্লুচেস্টারশায়ার। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইয়র্কশায়ারের টানা তিন জয়ের শুভযাত্রাকে থামিয়ে দিয়েছে তারা। দুই কাউন্টির মধ্যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি ছিল প্রথম দ্বৈরথ, যেখানে গ্লুচেস্টারশায়ার প্রথমে ব্যাট করে ২১৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় এবং পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৫৬ রানের জয় তুলে নেয়। এই জয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জয় পেল গ্লুচেস্টারশায়ার।
ডার্সি শর্টের ব্যাটে রানের পাহাড়
গ্লুচেস্টারশায়ারের এই বিশাল সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডার্সি শর্ট। ৫০ বলের মুখোমুখি হয়ে তিনি পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে ৮২ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার সঙ্গী হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া জো ফিলিপস ২৫ বলে ৪২ রানের চমৎকার একটি ইনিংস উপহার দেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে পাকিস্তানি পেসার হাসান আলি দুর্দান্ত বোলিং করে ২৯ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন, যা গ্লুচেস্টারশায়ারকে আরও বড় সংগ্রহ গড়া থেকে কিছুটা আটকে রাখতে সাহায্য করেছিল। ডাওয়িড মালান ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকলেও, দলের বাকিরা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন। ১০ ওভার শেষে গ্লুচেস্টারশায়ারের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৮৬ রান। বিশেষ করে ডম বেসের ওভারে ২০ রান নিয়ে রানের গতি বাড়ান শর্ট, যা তাকে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম ফিফটির কাছে পৌঁছে দেয়।
শর্টের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত ইয়র্কশায়ার
২১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইয়র্কশায়ার শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। গ্লুচেস্টারশায়ারের বোলাররা শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং শুরু করেন। অলি প্রাইসের বলে জনি বেয়ারস্টো লং-অনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলে ইয়র্কশায়ার প্রথম ধাক্কা খায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দলটি চাপে পড়ে। তবে ওপেনার অ্যাডাম লিথ এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৫৬ বলে ৯৭ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় ইয়র্কশায়ার ১৬১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডার্সি শর্ট তার বাঁহাতি রিস্ট স্পিন দিয়ে। একই ওভারে পরপর দুই বলে মঈন আলি এবং ম্যাথিউ রিভিসকে আউট করে ইয়র্কশায়ারের জয়ের আশা প্রায় শেষ করে দেন তিনি। পরে ফাহিম আশরাফ এবং ডম বেসকেও নিজের শিকার বানান। সব মিলিয়ে ৩০ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নিয়ে তিনি ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। ডুয়ান জেনসেন শেষদিকে দুর্দান্ত বোলিং করে আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ইয়র্কশায়ারের পরাজয় নিশ্চিত করেন। লিথ শেষ ব্যাটার হিসেবে মার্চেন্ট ডি লাঞ্জের বলে আউট হন।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- গ্লুচেস্টারশায়ার: ২১৭/৬ (ডার্সি শর্ট ৮২, জো ফিলিপস ৪২, হাসান আলি ৩/২৯)
- ইয়র্কশায়ার: ১৬১ অলআউট (অ্যাডাম লিথ ৯৭, ডার্সি শর্ট ৪/৩০)
- ফলাফল: গ্লুচেস্টারশায়ার ৫৬ রানে জয়ী।
এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ডার্সি শর্ট ব্যাট এবং বল উভয় ক্ষেত্রেই তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন, যার সুবাদে গ্লুচেস্টারশায়ার হেডিংলির মতো কঠিন মাঠে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। ইয়র্কশায়ারের জন্য এই হারটি অবশ্যই হতাশাজনক, বিশেষ করে অ্যাডাম লিথের বীরত্বপূর্ণ ইনিংসের পরও দল জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। তবে টুর্নামেন্ট সবে শুরু হয়েছে এবং আগামী ম্যাচগুলোতে ইয়র্কশায়ার নিশ্চয়ই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। গ্লুচেস্টারশায়ার তাদের এই জয়ের ধারা বজায় রেখে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইবে।