Home comfort vs championship pedigree as GT and RCB collide in IPL final
Contents
সেরা দুই দলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই
আইপিএলের ইতিহাসে বহু বছর ধরে নিয়ম ছিল যে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের হোম ভেন্যুতেই পরবর্তী ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেই রীতি অনুযায়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) এবার হোম অ্যাডভান্টেজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়মের পরিবর্তনে এখন গুজরাট টাইটানস (GT) সেই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে যখন শিরোপার লড়াইয়ে সবকিছু বাজি ধরা থাকে, তখন ছোটখাটো সুবিধাগুলোও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
টিমগুলোর শক্তির জায়গা
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বর্তমান ব্যাটিং লাইন-আপ অত্যন্ত বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছে। তাদের নতুন বলের বোলাররাও দারুণ ছন্দে আছেন। যদিও আহমেদাবাদের এই মাঠে লিগ পর্যায়ে গুজরাটের কাছে তারা ১৫৫ রানে অলআউট হয়েছিল, তবুও ধর্মশালায় তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। টানা ১৮ বছর শিরোপাশূন্য থাকার পর টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আরসিবি। গত আট বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোয়ালিফায়ার ১ জয়ী দলই ফাইনালের শিরোপা ঘরে তুলেছে, যা আরসিবির জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
অন্যদিকে, গুজরাট টাইটানস তাদের পেস আক্রমণের ওপর ভরসা করছে। কাগিসো রাবাদা এবং মোহাম্মদ সিরাজ এই মৌসুমে পাওয়ারপ্লেতে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন। গুজরাটের স্ট্রাইক রেট এই মৌসুমে সবচেয়ে ভালো, আর নিজেদের ডেরায় আহমেদাবাদে তা আরও কার্যকর। গত পাঁচ বছরে এটি তাদের তৃতীয় ফাইনাল, যা তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ পেডিগ্রি বা ঐতিহ্যের পরিচয় দেয়।
ফোকাসে থাকা খেলোয়াড়: টিম ডেভিড এবং জেসন হোল্ডার
টিম ডেভিড গত পাঁচটি ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই রান পাননি ঠিকই, কিন্তু পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রমাণ করে যে যেকোনো মুহূর্তে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। আরসিবি শিবির তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে। অন্যদিকে, জেসন হোল্ডার গুজরাটের বোলিং লাইন-আপে এক অনন্য ভারসাম্য এনেছেন। তিনি ১৭টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৭.৫৪ ইকোনমি রেটে রান দিয়েছেন, যা আহমেদাবাদের মতো পিচে অত্যন্ত কার্যকর।
সম্ভাব্য একাদশ
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: বিরাট কোহলি, ভেঙ্কটেশ আইয়ার/ফিল সল্ট, দেবদত্ত পাডিক্কাল, রজত পাটিদার (অধিনায়ক), ক্রুনাল পান্ডিয়া, টিম ডেভিড, জিতেশ শর্মা (উইকেটরক্ষক), রোমারিও শেফার্ড, ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড, রাসিখ সালাম।
গুজরাট টাইটানস: শুভমান গিল (অধিনায়ক), বি সাই সুদর্শন, জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), ওয়াশিংটন সুন্দর, নিশান্ত সিন্ধু, জেসন হোল্ডার, রাহুল তেওয়াতিয়া, রশিদ খান, আর সাই কিশোর, কাগিসো রাবাদা, মোহাম্মদ সিরাজ।
পিচ এবং পরিসংখ্যান
আহমেদাবাদের পিচ সাধারণত রান তাড়া করা দলকে বেশি সুবিধা দেয়। গত ছয়টি ফাইনালের মধ্যে চারটিই জিতেছে রান তাড়া করা দল। এছাড়া শুভমান গিল আহমেদাবাদের পিচে নিজের ক্যারিয়ারের গড়ের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী, যা আরসিবির জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে ভুবনেশ্বর কুমারের অভিজ্ঞতা এবং জশ হ্যাজলউডের পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জয়ের রেকর্ড এই ম্যাচে উত্তাপ বাড়াবে। রাবাদা এবং কোহলির ব্যক্তিগত দ্বৈরথও হবে দেখার মতো। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শিরোপার হাসি, তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু কয়েক ঘণ্টার।