Shaun Tait interested in Bengal coaching role – বাংলার কোচিং প্যানেলে শন টেইট: সম্ভাবনা ও বিস্তারিত
Contents
বাংলার কোচিং প্যানেলে শন টেইট: নেপথ্যের গল্প
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন গতিদানব এবং বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইটকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল ‘বেঙ্গল’ বা বাংলার কোচিং সেটআপে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। ক্রিকেটের আধুনিক যুগে বোলারদের টেকনিক এবং মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন আনার দক্ষতায় টেইট বরাবরই প্রশংসিত।
সিএবি-র সাথে আলোচনা ও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া
দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল টেইটের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য। এই প্যানেলে ছিলেন অরুণ লাল, দেবাং গান্ধী এবং কল্যাণ চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞরা। এমনকি পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিরও সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা গেছে। মূলত প্রধান কোচের পদের জন্যই আবেদন করেছিলেন টেইট, তবে সিএবি বর্তমানে বর্তমান কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার ওপরই আস্থা রাখতে চেয়েছে। তবুও, টেইটের সাথে সিএবি-র আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
পেস বোলিং কোচ হিসেবে নতুন সম্ভাবনা
যদিও প্রধান কোচের পদে নিয়োগ পাননি, তবে সিএবি চাইছে টেইটকে পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত করতে। যদি এই চুক্তি সফল হয়, তবে তিনি কেবল সিনিয়র দলের সাথেই কাজ করবেন না, বরং বয়সভিত্তিক দলগুলোর উঠতি পেসারদের গড়ে তোলার দায়িত্বও পালন করবেন। বাংলার পেস বোলিং ইউনিটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য এমন একজন বিশেষজ্ঞ কোচের প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরেই অনুভব করছে সিএবি।
চ্যালেঞ্জ ও পারিশ্রমিকের সমীকরণ
এই নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেইটকে নিয়োগ দিতে বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপির বেশি খরচ হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাথে কাজ করে তিনি মাসে প্রায় ১৪,০০০ ডলার বেতন পান, যা বছরে প্রায় দুই কোটি ভারতীয় রুপির সমতুল্য। এই বিশাল অংকের পারিশ্রমিক সিএবি কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ দলের সাথে টেইটের সফল যাত্রা
২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব গ্রহণ করা শন টেইটের কাজের ওপর বিসিবি যথেষ্ট সন্তুষ্ট। তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার মতো তরুণ পেসাররা সরাসরি টেইটের কোচিং পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন। তার অধীনে বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণ অনেক বেশি ধারালো হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিবি-র সাথে তার চুক্তির মেয়াদ রয়েছে।
শন টেইটের অভিজ্ঞতার ঝুলি
টেইটের কোচিং ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের আগে তিনি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসের সহকারী কোচ এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম কিংসের প্রধান কোচ হিসেবে দলকে ফাইনালে তুলে নজর কেড়েছিলেন।
ব্যক্তিগত কারণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
শন টেইটের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে ভারতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার স্ত্রী ভারতীয় হওয়ায় তিনি নিয়মিতই ভারতে সময় কাটান। বাংলার হয়ে কাজ করা তার জন্য কেবল একটি পেশাদার দায়িত্ব নয়, বরং এটি তাকে ভবিষ্যতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) বা ভারতীয় জাতীয় দলের সাথে কাজ করার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। তার কোচিং দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ভারতের উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। এখন অপেক্ষা শুধু সিএবি এবং টেইটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।