South Africa A tame Lions with two sessions to spare
Contents
একটি অনবদ্য জয়: South Africa A tame Lions with two sessions to spare
অরুনডেলের মাঠে অনুষ্ঠিত দুই দলের প্রথম অনানুষ্ঠানিক টেস্ট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল দাপুটে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ইংল্যান্ড লায়ন্সকে আট উইকেটে পরাজিত করেছে। ম্যাচের শেষ দিনে দুই সেশন বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা প্রমাণ করেছে কেন তারা এই সিরিজে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্তসার ও শেষ দিনের নাটকীয়তা
ম্যাচের শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯২ রান। ইংল্যান্ড লায়ন্স তাদের বোলারদের ওপর ভরসা করে ম্যাচটিকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল। দিনের দ্বিতীয় বলেই লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট জর্ডান হারম্যানের ক্যাচ মিস করেন, যা ছিল লায়ন্সের জন্য বড় এক সুযোগ নষ্ট হওয়া। যদিও হ্যাম্পশায়ারের এডি জ্যাক লেসেগো সেনোকওয়ানেকে ইয়র্কার দিয়ে আউট করে দলে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন, তবে সেটিই ছিল শেষ দিনে ইংল্যান্ডের একমাত্র সাফল্য।
জর্ডান হারম্যান এবং জুবায়ের হামজা এরপর আর কোনো সুযোগ দেননি। হারম্যান একটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং এরপর হামজার সাথে জুটি বেঁধে খুব দ্রুত জয়ের বন্দরে পৌঁছে যান। তাদের ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি মাত্র ৭২ বলে আসে, যা মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই জয় নিশ্চিত করে দেয়।
অভিজ্ঞতার লড়াই বনাম তারুণ্যের তেজ
এই পরাজয়ের ব্যবধান বড় হলেও, ইংল্যান্ড লায়ন্সের তরুণ দলের লড়াইকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিলেন ২৭ বছর বয়সী লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে পাঁচজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। এমনকি তাদের অধিনায়ক মার্কাস অ্যাকারম্যানের ব্যাটে আসা প্রথম ইনিংসের ১৭৩ রানের ইনিংসটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার বিপরীতে ইংল্যান্ডের তরুণরা অনেক প্রতিভাবান। গ্ল্যামারগনের আসা ট্রাইব তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি (১৩৫) তুলে নিয়ে নিজের পরিপক্কতার প্রমাণ দিয়েছেন। এছাড়া বেন ময়েসের প্রথম পেশাদার সেঞ্চুরি (১০৫) ছিল দেখার মতো। এই দুজন প্রমাণ করেছেন যে তাদের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল।
পিচ এবং বোলারদের ভূমিকা
অরুনডেল ক্যাসেলের পিচটি ছিল দারুণ। প্রথম দিনে পেসাররা সুবিধা পেলেও পরবর্তী দিনগুলোতে ব্যাটাররা রান করার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া দ্বিতীয় দিনের শেষভাগ থেকে স্পিনাররা পিচ থেকে টার্ন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে মিচেল স্ট্যানলি এবং এডি জ্যাক গতি ও স্কিলের দারুণ প্রদর্শনী করেছেন। যদিও প্রথম ইনিংসে তাদের পরিসংখ্যান খুব একটা উজ্জ্বল ছিল না, তবে তাদের প্রতিভা নিয়ে কারো মনে সন্দেহ নেই।
সামনের পথচলা
এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল এখন শুক্রবার থেকে বেকেনহামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ৫০ ওভারের ম্যাচ। ইংল্যান্ড লায়ন্স তাদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরবর্তী লড়াইয়ে ফেরার জন্য প্রস্তুত হবে। তবে সামগ্রিকভাবে, এই ম্যাচটি ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতা যেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিলনমেলায় খেলাটি দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের এই জয় তাদের ক্রিকেট কাঠামোর গভীরতা এবং খেলোয়াড়দের মানেরই পরিচয় দেয়। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ড লায়ন্স কীভাবে এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনে।