Kuldeep: ‘Was expecting more, but I couldn’t deliver this season’ – আইপিএল নিয়ে অকপট কুলদীপ
Contents
আইপিএল ২০২৬: নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ কুলদীপ যাদব
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে পড়া দিল্লি শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৪০ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। তবে এই জয় ছাপিয়ে আলোচনায় রয়েছেন দলের তারকা স্পিনার কুলদীপ যাদব। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, এবারের আসরে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি তিনি। Kuldeep: ‘Was expecting more, but I couldn’t deliver this season’—তার এই মন্তব্যই বলে দেয় দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণা কতটা গভীর।
ব্যর্থতার কারণ ও আত্মোপলব্ধি
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কুলদীপ জানান, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তিনি ছন্দহীন ছিলেন। কেকেআর ম্যাচের আগে ১০ ইনিংসে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন মাত্র সাতটি উইকেট, যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিল ১০.৬৬। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি আমার কাছ থেকে যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা পূরণ করতে পারিনি। দলের হয়ে ভালো কিছু করার পরিকল্পনা থাকলেও আমরা সেরা চারে জায়গা করতে পারিনি, যা আমাকে হতাশ করেছে।’
ঘরের মাঠে ফিরে ফিরে পাওয়া ছন্দ
টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে ছন্দে ফিরতে কুলদীপ তার কোচ এবং নিজের অনুশীলনের ওপর জোর দেন। দিল্লির আগের ম্যাচের পর তিনি নিজ শহরে ফিরে কোচের সঙ্গে কাজ করেন এবং একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেন। এই উদ্যোগটি দারুণ কাজ করেছে কেকেআর ম্যাচে। কুলদীপ মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোটখাটো ভুলগুলো খুব দ্রুত বড় হয়ে দেখা দেয়। কোচ তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তিনি বলকে বেশি স্পিন করার দিকে মনোযোগ দেন এবং ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।
টেকনিক্যাল সমস্যার সমাধান
নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কুলদীপ বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে আমার শরীর পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছিলাম না। আমার বোলিং অ্যাকশন একটু বেশি ওপেন-চেস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে আমি কেবল বল ঠেলে দিচ্ছিলাম, যা ব্যাটারদের জন্য সহজ হয়ে যাচ্ছিল। শরীর ব্যবহার করে বল স্পিন করতে পারলে ড্রিপ এবং ড্রিফট পাওয়া যায়, যা আমি কেকেআর ম্যাচে দারুণভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছি।’
ম্যাচ জয়ী স্পেল
কলকাতার বিপক্ষে কুলদীপ যাদব ৪ ওভারে ২৯ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন। তিনি ক্যামেরন গ্রিন, অজিঙ্কা রাহানে এবং রিঙ্কু সিংয়ের মতো ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরান। বিশেষ করে রিঙ্কু সিংয়ের উইকেটটি ছিল তার পরিকল্পনার ফসল। ধীরগতির ডেলিভারিতে ব্যাটারকে বোকা বানিয়ে উইকেট পাওয়ার কৌশলটি তিনি নিখুঁতভাবে কাজে লাগান। এমনকি তিনি আইপিএলে হ্যাট্রিকের সুযোগও তৈরি করেছিলেন, কিন্তু ফিল্ডারের ভুলে তা হাতছাড়া হয়।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
এই মৌসুমের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কুলদীপ এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাট্রিক হলো কি হলো না তা বড় বিষয় নয়, আমি যেভাবে বল করেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। এই পারফরম্যান্স আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আশা করছি পরবর্তী সিরিজগুলোতে আমি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারব।’
দিল্লি ক্যাপিটালসের হতাশাজনক এই মৌসুমে কুলদীপের এই শেষ মুহূর্তের ঝলক কিছুটা হলেও দলের সমর্থকদের স্বস্তি দিয়েছে। একজন বোলার হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা নিয়ে কাজ করার মানসিকতাই তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কুলদীপের এই ফিরে আসার গল্পটি প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে খারাপ সময় কাটিয়ে আবার স্বরূপে ফেরা সম্ভব।